লুঙ্গি বা হাফ প্যান্ট পরে চালানো যাবে না টোটো?

July 02, 2026
Reading...
উত্তর ২৪ পরগনা জেলা ট্র্যাফিক পুলিশের নয়া উদ্যোগ। মহিলা যাত্রীদের অস্বস্তি এড়াতে লুঙ্গি, হাফ প্যান্ট বা বারমুডা পরে অটো, টোটো ও ই-রিকশা না চালানোর..
আপনি যদি ই-রিকশা, টোটো কিংবা অটো চালিয়ে থাকেন, তবে এই খবরটি আপনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উত্তর ২৪ পরগনা জেলা ট্র্যাফিক পুলিশের তরফ থেকে অটো, টোটো এবং ই-রিকশা চালকদের পোশাক নিয়ে একটি নতুন পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। চালকরা যাতে গাড়ি চালানোর সময় হাফ প্যান্ট, ছোট প্যান্ট বা লুঙ্গি না পরেন, সেই বিষয়ে ট্র্যাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে চালকদের সচেতন করা হচ্ছে।

জানা গিয়েছে, জেলা ট্র্যাফিক পুলিশের কাছে বেশ কিছু অভিযোগ জমা পড়েছিল। সেই অভিযোগ অনুযায়ী, চালকদের এই ধরনের পোশাকের কারণে শালীনতার মাত্রা লঙ্ঘিত হচ্ছে এবং বিশেষ করে মহিলা যাত্রীরা যাতায়াতের সময় চরম অস্বস্তির সম্মুখীন হচ্ছেন। মূলত এই কারণেই উত্তর ২৪ পরগনা জেলা ট্র্যাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে চালকদের লুঙ্গি, বারমুডা অথবা হাফ প্যান্ট পরার ক্ষেত্রে বারণ করা হয়েছে।

দত্তপুকুর ট্র্যাফিক গার্ডের আধিকারিক দেবদাস দেবনাথ বামনগাছি চৌরাস্তা সংলগ্ন যশোর রোডে একটি বিশেষ প্রচার অভিযান চালান। ওই অভিযান চলাকালীন একাধিক টোটো ও অটো চালককে দাঁড় করানো হয়। যে সকল চালকের পরনে হাফ প্যান্ট, লুঙ্গি বা বারমুডা ছিল, পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁদের সতর্ক করে পরামর্শ দেওয়া হয় যাতে পরের দিন থেকে তাঁরা এই ধরনের পোশাক পরে গাড়ি না চালান। এর প্রধান কারণ হিসেবে মহিলা যাত্রীদের অস্বস্তির বিষয়টিই তুলে ধরা হয়।

অনেক চালকের মনেই এই প্রশ্ন জাগতে পারে যে, লুঙ্গি বা হাফ প্যান্ট পরে অটো-টোটো চালালে কি কোনও আর্থিক জরিমানার সম্মুখীন হতে হবে? এর উত্তর হল, একেবারেই না। এখনও পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে এই সংক্রান্ত কোনও সুনির্দিষ্ট ট্র্যাফিক আইন বলবৎ নেই। ফলে জেলা ট্র্যাফিক পুলিশের এই পদক্ষেপটি নিছকই একটি পরামর্শ, কোনও আইনি নির্দেশ নয়।

পুলিশের এই প্রচার অভিযান চলাকালে বেশ কয়েকজন চালক এই নির্দেশিকার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তবে অনেকেই এ কথাও স্বীকার করে নিয়েছেন যে, তাঁদের পোশাক পরিবর্তনের ফলে যদি নারী যাত্রীরা যাতায়াতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, তবে এই পরামর্শ মেনে চলতে তাঁদের কোনও আপত্তি নেই।

আপাতত এই বিশেষ উদ্যোগটি কেবলমাত্র বারাসত পুলিশ জেলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। আগামী দিনে অন্যান্য জেলার ট্র্যাফিক পুলিশও অনুরূপ কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
Advertisement