একাউন্টে কোটি কোটি টাকা! জলপাইগুড়ি থেকে দার্জিলিং, ব্যাঙ্কের ব্যালেন্স চেক করতেই চক্ষু চড়কগাছ সাধারণ মানুষের!

July 12, 2026
Reading...
ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি টাকা! অন্নপূর্ণা যোজনা, স্কলারশিপ ও বার্ধক্য ভাতার ব্যালেন্স চেক করতে গিয়ে চক্ষু চড়কগাছ জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার
বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ টাকা জমা পড়ার ঘটনায় একাধিক জায়গায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অন্নপূর্ণা যোজনার পাশাপাশি বার্ধক্য ভাতা এবং স্কুলের পড়ুয়াদের স্কলারশিপের একাউন্টেও একইভাবে কোটি কোটি টাকা ঢুকছে। গত দু’দিনে বিভিন্ন স্থান থেকে এই ধরণের একাধিক চমকপ্রদ ঘটনার কথা জানা গিয়েছে।

জানা যায়, জলপাইগুড়ি জেলার জটেশ্বর পুলিশ ফাঁড়ি এলাকার কড়াইবাড়ি গ্রামের গৃহবধূ শম্পা বর্মনের ক্ষেত্রে এমনটা প্রথম ঘটে। শুক্রবার তিনি ধুলাগাঁও এলাকার একটি কাস্টমার সার্ভিস পয়েন্টে (সিএসপি) অন্নপূর্ণা যোজনার ৩ হাজার টাকা তুলতে যান। সেখানে স্টেটমেন্টে দেখা যায়, তাঁর অ্যাকাউন্টে জমা রয়েছে ৭৪০ কোটি ৬৮ লক্ষ টাকা। এরপর পুলিশ ওই মহিলাকে সঙ্গে নিয়ে ব্যাঙ্কে হাজির হয়। তবে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ জানায় যে, তাঁর অ্যাকাউন্টে প্রকৃতপক্ষে ২১৬ টাকা ব্যালেন্স রয়েছে। মূলত প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণেই এই বিভ্রান্তি। কাস্টমার সার্ভিস পয়েন্টের রসিদে যে বিপুল টাকার অঙ্ক দেখাচ্ছিল, সেটি আদতে ভিন রাজ্যের একটি ১০ সংখ্যার ফোন নম্বর।

অন্যদিকে, জলপাইগুড়ি জেলার ময়নাগুড়ি ব্লকের সাপটিবাড়ি এলাকার জোরদারটারির বাসিন্দা শেফালী রায়ও অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা চেক করতে একটি গ্রাহক পরিষেবা কেন্দ্রে গিয়েছিলেন। সেখানে ব্যালেন্স দেখে তিনি রীতিমতো হতবাক হয়ে যান। জানা গিয়েছে, তাঁর অ্যাকাউন্টে ৭৫৯ কোটি টাকারও বেশি ব্যালেন্স দেখাচ্ছিল। পরে অনেক দৌড়ঝাঁপ করে তিনি বুঝতে পারেন যে এটি সম্পূর্ণ ব্যাঙ্কের সমস্যার কারণে হয়েছে।

জলপাইগুড়ি ছাড়াও দার্জিলিং, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহার জেলা থেকেও একই ধরণের খবর প্রকাশ্যে আসতে থাকে। আলিপুরদুয়ার ১ নম্বর ব্লকের পূর্ব কাঁঠালবাড়ি এলাকায় ঠিক একই ঘটনা ঘটে। শুক্রবার সেখানকার বাসিন্দা অগেশ্বর বর্মন বার্ধক্য ভাতার ১ হাজার টাকা তোলার জন্য গিয়ে দেখতে পান তাঁর অ্যাকাউন্টে ৭৪০ কোটি টাকা রয়েছে। শনিবার তিনি পুনরায় ব্যালেন্স চেক করতে গেলে দেখেন সেই টাকার পরিমাণ আরও বেড়ে ৭৫৯ কোটি ৬৯ লক্ষ টাকা হয়ে গিয়েছে।

কোচবিহার জেলার হলদিবাড়ির সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী সুপর্ণা রায় শনিবার স্কুলের স্কলারশিপের ৯০০ টাকা তুলতে গিয়ে নিজের অ্যাকাউন্টে ৭৫৯ কোটি টাকা দেখতে পেয়ে রীতিমতো ভয় পেয়ে যায়। কোচবিহার জেলার দিনহাটার বড় আটিয়াবাড়ী এলাকার জোরপাকুড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের এক দশম শ্রেণির ছাত্রের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটে। শনিবার এলাকার একটি গ্রাহক সেবা কেন্দ্র থেকে স্কলারশিপের টাকা তোলার পর ওই ছাত্র দেখে, তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৭৫৯ কোটি ৬৯ লক্ষ ৫১ হাজার ৯৫১ টাকা ১৬ পয়সা রয়েছে। এই বিপুল ব্যালেন্স দেখে চমকে গিয়ে সে বাড়িতে বিষয়টি জানায়। এরপর রবিবার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দিনহাটা থানায় উপস্থিত হয়ে পুরো বিষয়টি জানায় ওই পড়ুয়া। তবে এদিন পুলিশ তাকে অভয় দেয়।

এছাড়াও, দার্জিলিং জেলার ফাঁসিদেওয়া ব্লকের বিধাননগর এলাকার বাসিন্দা মেহেরুন্নেসা গ্রাহক পরিষেবা কেন্দ্রে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা ঢুকেছে কিনা তা যাচাই করতে যান। সেখানে তিনি ব্যালেন্স চেক করে দেখেন তাঁর অ্যাকাউন্টে প্রায় ৭৪০ কোটি ৬৮ লক্ষ টাকা জমা রয়েছে। জানা গিয়েছে, তিনিও পুলিশের দ্বারস্থ হয়ে বিষয়টি জানিয়েছেন।

এই সমগ্র ঘটনার প্রেক্ষিতে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, সার্ভারের প্রযুক্তিগত ত্রুটির ফলেই এমনটা দেখাচ্ছে। তবে চাইলেও কেউ ওই টাকা অ্যাকাউন্ট থেকে তুলতে পারবেন না।
Advertisement