পুকুর থেকে ১২ বছরের কিশোরীর দেহ উদ্ধার, বারুইপুর কাণ্ডে ধৃত ৩! কড়া পদক্ষেপের বার্তা প্রশাসনের

July 06, 2026
Reading...
বারুইপুর কাণ্ডে (Baruipur Incident) ১২ বছরের নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় যুক্ত হল গণধর্ষণ এবং পকসো (POCSO) ধারা। ধৃত ৩ জনের মধ্যে ২ জনের ১৪ দিনের!
বারুইপুর কাণ্ডে (Baruipur Incident) নিখোঁজ ১২ বছরের নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে বলে প্রথম থেকেই পরিবারের তরফে দাবি করা হচ্ছিল। অবশেষে পরিবারের সেই আশঙ্কাই বাস্তবে রূপ নিল। ওই কিশোরীর মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ার প্রায় ২৪ ঘণ্টা পরে এই নৃশংস ঘটনায় গণধর্ষণের মামলা রুজু করা হয়েছে। সোমবার বারুইপুর আদালতে খুনের ধারার পাশাপাশি ভারতীয় ন্যায় সংহিতা বা বিএনএস (BNS)-এর ৭০ (২) নম্বর ধারা এবং পকসো (POCSO) আইনের ৬ নম্বর ধারাও যুক্ত করেছে পুলিশ।

এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নেমে পুলিশ এখনও পর্যন্ত মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতরা হলো— প্রভাস মণ্ডল, দিবাকর সর্দার এবং আনন্দ সর্দার। সোমবার কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে প্রভাস ও দিবাকরকে বারুইপুর আদালতে পেশ করা হয়। মামলার গুরুত্ব এবং স্পর্শকাতরতার দিকটি তুলে ধরে সরকারি আইনজীবী আদালতে জানান, এই মুহূর্তে ফরেন্সিক সহ অন্যান্য বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা সম্পন্ন করা অত্যন্ত জরুরি। অভিযুক্তরা জেলের বাইরে থাকলে তথ্য ও প্রমাণ লোপাট হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। তাঁর এই সওয়ালের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক দুই অভিযুক্তকেই ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আগামী ২০ জুলাই তাদের ফের আদালতে তোলা হবে। অন্যদিকে, পুলিশ সূত্রে খবর, সোমবার নতুন করে গ্রেপ্তার হওয়া তৃতীয় অভিযুক্ত আনন্দ সর্দারকে মঙ্গলবার আদালতে পেশ করা হবে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, এদিন আদালতে অভিযুক্তদের পক্ষে সওয়াল করার জন্য কোনও আইনজীবীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি।
তদন্তকারী আধিকারিকদের সূত্রে জানা গিয়েছে, শুরুতে নাবালিকাকে অপহরণ করা হয়েছে জানিয়ে পরিবারের তরফে একটি ডায়েরি করা হয়েছিল। সেই সূত্র ধরেই পুলিশ প্রথমে প্রভাস মণ্ডলকে আটক করে। তাকে লাগাতার জেরা করার পরেই স্থানীয় একটি পুকুর থেকে ওই কিশোরীর নিথর দেহ উদ্ধার হয়। এরপর তদন্তের জাল আরও গুটিয়ে এনে একে একে দিবাকর এবং আনন্দকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বর্তমানে ধৃতদের বিরুদ্ধে বিএনএস-এর একাধিক জামিন অযোগ্য ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে।

নাবালিকার উপর এহেন পাশবিক অত্যাচার ও খুনের ঘটনায় রাজ্য প্রশাসনের তরফে কড়া প্রতিক্রিয়া মিলেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) গোটা ঘটনাটিকে ‘জঘন্যতম অপরাধ’ হিসেবে চিহ্নিত করে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, “নিহত কিশোরীর বাবা যা যা বিচার চেয়েছেন, সরকার তার সবটাই করবে। ওঁরা প্রশাসনের উপর যে আস্থা রেখেছেন, তাতে আমি খুশি।” রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের গলাতেও একই সুর শোনা গিয়েছে। অপরাধীদের কোনওভাবেই রেয়াত করা হবে না, সেই কড়া বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “কে অপরাধ করেছে বা কার উপর করেছে— তার জাত-পাত আমাদের কাছে বিচার্য নয়। নারী নির্যাতনের মতো ঘটনা ঘটলে কাউকে এক চুলও ছাড়া হবে না। অপরাধীদের চরম পরিণতি ভোগ করতে হবে।” প্রশাসনের তরফে এমন কড়া বার্তা আসার পর, এবার বারুইপুর কাণ্ডে দ্রুত ন্যায়বিচার পাওয়ার আশায় দিন গুনছে নির্যাতিতার পরিবার।
Advertisement