প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে হার মানল কেন্দ্র, ‘ককরোচ’-দের চাপে পদত্যাগ করলেন ধর্মেন্দ্র!

July 25, 2026
Reading...
নিট প্রশ্নফাঁস এবং দুর্নীতি বিতর্কে সিজেপি (CJP) আন্দোলনের চাপে পদত্যাগ করলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। জানুন সোনম ওয়াংচুকের অনশন...
অবশেষে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) লাগাতার আন্দোলনের জেরে নিজের পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। নিট (NEET) পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস সহ শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগে প্রথম থেকেই মন্ত্রীর ইস্তফার দাবিতে অনড় ছিল তারা। সিজেপি স্পষ্ট জানিয়েছিল, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া অন্য কোনও শর্তে তারা আন্দোলন তুলবে না এবং দুর্নীতির সম্পূর্ণ দায় মন্ত্রীকেই নিতে হবে। এই ইস্যুতে সরকারের সঙ্গে আন্দোলনকারী প্রতিনিধিদের দু’দফায় আলোচনা হলেও জট খোলেনি। শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টে নাগাদ তৃতীয় দফার বৈঠকের কথা ছিল। কিন্তু তার ঠিক দেড় ঘণ্টা আগেই পদত্যাগ করেন ধর্মেন্দ্র। এদিন সকালে সিজেপি-র পক্ষ থেকে কড়া ভাষায় জানানো হয়েছিল, মন্ত্রী ইস্তফা দিতে রাজি না থাকলে সরকারের সঙ্গে নতুন করে বৈঠকে বসার কোনও অর্থ হয় না। জানা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন ধর্মেন্দ্র। সূত্রের খবর, নিয়ম মেনে প্রধানমন্ত্রী তা রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠান এবং রাষ্ট্রপতি সেই ইস্তফাপত্র গ্রহণ করেছেন।

কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে সিজেপি-র পক্ষ থেকে মোট তিনটি শর্ত রাখা হয়েছিল। এর মধ্যে প্রধান দাবিটিই ছিল কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফা। এছাড়া, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনও আইনি পদক্ষেপ না করা এবং নিট প্রশ্নফাঁস বিতর্কে আত্মঘাতী পড়ুয়াদের পরিবার পিছু এক কোটি টাকা করে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানানো হয়। সরকার দ্বিতীয় ও তৃতীয় দাবিটি মেনে নিলেও শুক্রবার পর্যন্ত প্রথম দাবিতে সম্মতি জানায়নি। জেপি নড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিংহ কেন্দ্রের হয়ে জানিয়েছিলেন, শনিবার বিকেলে ফের ‘ককরোচ’-দের সঙ্গে তাঁরা আলোচনায় বসবেন। তবে সেই নির্ধারিত সময়ের আগেই আন্দোলনকারীদের এক নম্বর দাবিটি মান্যতা পায়
ইস্তফা দিয়ে ধর্মেন্দ্র প্রধানের বিবৃতি।
শনিবার দুপুরে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের ইস্তফার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন ধর্মেন্দ্র। তিনি জানান, গত ১০ দিনের নানা ঘটনাপ্রবাহে তিনি অত্যন্ত ব্যথিত। সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, গত চার দশক ধরে শিক্ষা, শিক্ষক ও পড়ুয়াদের কল্যাণে তিনি নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। একটি দূরদর্শী এবং শক্তিশালী শিক্ষাব্যবস্থাই যে একটি রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি হতে পারে, সে কথা তিনি সর্বদা বিশ্বাস করেন বলে জানিয়েছেন। দেশের যুবসমাজের আকাঙ্ক্ষা ও তরুণ প্রজন্মের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়া সকলের রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্তব্য। দেশসেবার সুযোগ দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতিও তিনি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

বিদায়ী শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, গত ৩ মে নিট পরীক্ষায় যে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল, প্রথম দিন থেকেই তিনি তার সম্পূর্ণ দায় স্বীকার করে নিয়েছিলেন এবং কখনোই তা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেননি। কোনও মেধাবী পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ যাতে নষ্ট না হয় এবং কারও সঙ্গে যাতে অবিচার না হয়, সেটাই তাঁর লক্ষ্য ছিল। তিনি জানিয়েছেন, যন্তর মন্তর সহ গোটা দেশে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তাতে দেশবিরোধী শক্তিগুলি যাতে ফায়দা তুলতে না পারে, সেই কারণেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দেশের ঐক্য বজায় রাখতে, পড়ুয়ারা যাতে আইনি জটিলতা থেকে দূরে থাকে এবং নিজেদের কেরিয়ারে মনোনিবেশ করতে পারে, সেই সব কথা ভেবেই তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছেন।

ধর্মেন্দ্র প্রধানের দাবি, প্রশ্নফাঁস বিতর্কের পর ২০ লক্ষেরও বেশি পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা যাতে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, সেটাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ছিল। কেন্দ্রীয় সরকারের পাশাপাশি রাজ্য সরকার এবং জেলা প্রশাসনগুলির বিশেষ সহযোগিতায় গত ২১ জুন পুনরায় নিট পরীক্ষা আয়োজিত হয় এবং ১৬ জুলাই তার ফলাফলও প্রকাশিত হয়েছে। তবে, এই পরিস্থিতিতে দায়িত্বশীল পদে থাকা কিছু ব্যক্তির ভূমিকা নিয়ে এদিন অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, কিছু মানুষ পড়ুয়াদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন এবং কাজে বাধা সৃষ্টি করেছেন, যা তাঁকে ব্যথিত করেছে। পদত্যাগপত্রের শেষে তিনি জানান, দেশসেবাই তাঁর কাছে সর্বাগ্রে এবং তিনি সর্বদা তাতে নিবেদিত থাকবেন। ভবিষ্যতেও দেশের যুবসমাজ, ভারতমাতা এবং ওড়িশার জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে তিনি কাজ করে যাবেন।

অন্যদিকে, শিক্ষায় দুর্নীতি, নিট কাণ্ড এবং ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে সিজেপি-র বিক্ষোভকে সমর্থন জানিয়ে দিল্লির যন্তর মন্তরে টানা ২৬ দিন অনশন করেন সোনম ওয়াংচুক। তাঁরও অন্যতম মূল দাবি ছিল কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ। তবে, গত বৃহস্পতিবার রাতে গুরুগ্রামের একটি হাসপাতালে জেপি নড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিংহের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তিনি অনশন প্রত্যাহার করেন। মন্ত্রীর ইস্তফার আগেই কেন তিনি অনশন ভাঙলেন, তা নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠলেও, সিজেপি তাঁর এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছিল। দীর্ঘ এই অনশনপর্বে তাঁর ১১ কেজি ওজন কমেছে। উল্লেখ্য, সোনমের অনশন ভাঙার ঠিক দু’দিনের মাথাতেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তাঁর পদ থেকে ইস্তফা দিলেন।
Advertisement