বর্ধমানে ২১শে জুলাইয়ের প্রস্তুতি সভা থেকে শাসকদল বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
জানা গিয়েছে, রাজ্যে পালাবদলের পর এই প্রথম ঘাসফুল শিবিরের বেশ কিছু কর্মীকে দলীয় কোনও কর্মসূচিতে পুনরায় উপস্থিত হতে দেখা গেল। এদিন তৃণমূল কর্মীদের বিরুদ্ধে হওয়া মামলার প্রসঙ্গ তুলে সাংসদ জানান, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে গোটা রাজ্যজুড়ে প্রায় ১৪ হাজার দলীয় কর্মী এবং সমর্থকের বিরুদ্ধে নানা মামলা দায়ের করা হয়েছে। আর তাই আগামী এক বছর নিজের ব্যক্তিগত উপার্জনের দিকে না তাকিয়ে, সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ওই কর্মীদের আইনি লড়াইয়ে পাশে থাকার কথা ঘোষণা করেন তিনি। এই আইনি সুরক্ষা প্রদানকেই এখন নিজের প্রধান দায়িত্ব বলে জানিয়েছেন কল্যাণ।
এদিনের এই সাংগঠনিক বৈঠকে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সাংসদ কীর্তি আজাদ, প্রাক্তন মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ-সহ জেলা নেতৃত্বের একাধিক প্রতিনিধি এবং বহু কর্মী-সমর্থক। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কর্মীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং কর্মসূচির রূপরেখা নিয়ে এদিন বিস্তারিত আলোচনা হয়। এরই পাশাপাশি বালির দাম বৃদ্ধি ইস্যুতেও বর্তমান সরকার অর্থাৎ বিজেপিকে একহাত নেন সাংসদ। তাঁর দাবি, তৃণমূল সরকারের আমলে এক ট্রাক বালির দাম অনেকটাই কম ছিল, যা এখন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। আর এই লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধির জন্য বর্তমান সরকারই সম্পূর্ণরূপে দায়ী।
অন্যদিকে, বর্ধমান-পূর্ব লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ শর্মিলা সরকারকে নিশানা করে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, শুধুমাত্র সংসদ বা বিধানসভায় উপস্থিত থাকাই একজন জনপ্রতিনিধির কাজ নয়। সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিয়মিত জনসংযোগ রাখা এবং তাঁদের সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়ানোই হল প্রকৃত জনপ্রতিনিধির আসল পরিচয়।
এছাড়া, ২১শে জুলাইয়ের সমাবেশের স্থান নিয়ে হাইকোর্টে চলা মামলার বিষয়ে সাংসদ স্পষ্ট জানান, আদালত যেখানে সভার অনুমতি দেবে, দল ঠিক সেখানেই এই কর্মসূচি পালন করবে। এক্ষেত্রে আদালতের নির্দেশের প্রতি দলের পূর্ণ সম্মান ও আস্থা রয়েছে। পূর্ব বর্ধমান জেলা নেতৃত্বের তরফ থেকেও এদিন জানানো হয়েছে, আসন্ন ২১শে জুলাইয়ের সমাবেশকে সফল করতে জেলা থেকে বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থক কলকাতায় পাড়ি দেবেন। সেই লক্ষ্যেই প্রস্তুতি আরও জোরদার করার বার্তা দেওয়া হয় এদিনের বৈঠক থেকে।
Advertisement