মহারাষ্ট্রে সাড়ে ৯ কোটির ভেজাল দুধ চক্রের পর্দাফাঁস! ডিটারজেন্ট মেশানো দুধ খাচ্ছে না তো আপনার সন্তান?

July 14, 2026
Reading...
মহারাষ্ট্রের ধরাশিব জেলায় সাড়ে ৯ কোটি টাকার ভেজাল দুধ চক্রের পর্দাফাঁস। ডিটারজেন্ট, পাম অয়েল ও কেমিক্যাল দিয়ে তৈরি ২৩ লক্ষ লিটার বিষাক্ত দুধ...
মহারাষ্ট্রে (Maharashtra) এক ভয়াবহ ভেজাল দুধ চক্রের (Adulterated milk scam) হদিশ মিলল। প্রতিদিন শিশুদের যে দুধ খাওয়ানো হচ্ছে, তাতে মারাত্মক বিষ মিশে থাকার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এই ঘটনার পর। ধরাশিব জেলার ভুম অঞ্চলে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর এবং পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে প্রায় সাড়ে ৯ কোটি টাকা মূল্যের এক বেআইনি কারবারের পর্দাফাঁস করেছে। জানা গিয়েছে, সেখানে কাপড় কাচার ডিটারজেন্ট, পাম অয়েল ও নানা ধরনের নিম্নমানের ক্ষতিকারক রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করে ২৩ লক্ষ লিটারের বেশি কৃত্রিম দুধ তৈরি করা হয়েছিল।

অত্যন্ত গুরুতর এই ঘটনাটিতে গোপন সূত্রের খবর পেয়ে একটি ডেইরি ইউনিটে তল্লাশি চালায় তদন্তকারী দল। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, ২ লক্ষ ৩০ হাজার কেজি নিম্নমানের গুঁড়ো দুধ দিয়ে এই বিষাক্ত মিশ্রণ বানানো হচ্ছিল। গ্রাহকদের প্রতারিত করার উদ্দেশ্যে আসল দুধের ফ্যাট, স্বাদ এবং রং বজায় রাখতে ১০০ লিটার খাঁটি দুধের সাথে ১০ লিটার রাসায়নিক যুক্ত কৃত্রিম দুধ মেশানো হতো। পাশাপাশি, রাজ্যের নানা প্রান্তে এই ভেজাল দুধ থেকে বানানো খোয়া ক্ষীরও সরবরাহ করা হচ্ছিল বলে জানা যায়।

এই তল্লাশি অভিযান চলাকালীন কারখানাটি থেকে মোট ৬১ ব্যাগ ভেজাল গুঁড়ো দুধ উদ্ধার করে পুলিশ। এই বিপুল দুর্নীতির মূল চক্রী হিসেবে বালাসাহেব গোড়গে-র নাম উঠে এসেছে। বিভিন্ন দুগ্ধ সংগ্রহ কেন্দ্রগুলোতে এই ক্ষতিকারক রাসায়নিক মেশানো গুঁড়ো দুধ মূলত তিনিই পৌঁছে দিতেন। ইতিমধ্যেই সাতজনের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পলাতক অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের জন্য এক পুলিশ ইন্সপেক্টরের অধীনে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট (SIT) তৈরি করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, কেমিক্যাল ও ডিটারজেন্ট যুক্ত এই দুধ মানুষের শরীরের জন্য আক্ষরিক অর্থেই বিষতুল্য। প্রতিনিয়ত এই ধরনের ভেজাল দুধ পানের ফলে লিভার এবং কিডনি পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাওয়ার প্রবল ঝুঁকি থাকে। বিপাকতন্ত্রেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়। চিকিৎসকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, বয়স্ক ব্যক্তি, শিশু এবং গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে এই পানীয় মৃত্যুর কারণ পর্যন্ত হতে পারে। এই ভয়ংকর কেলেঙ্কারির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসায় সমগ্র দেশজুড়ে খাদ্য সুরক্ষার নিয়মকানুন নিয়ে নতুন করে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে।
Advertisement