মালদায় সাপের কামড় খেয়ে পাল্টা সাপকেই কামড়ে মারলেন এক যুবক। মৃত সাপ হাতে ৪ কিলোমিটার হেঁটে হাসপাতালে পৌঁছালেন ফারুক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন মানুটোলা এলাকায় একটি নির্মীয়মাণ বাড়িতে শ্রমিকের কাজ করছিলেন ফারুক। জঞ্জাল পরিষ্কার করার সময় আচমকাই চার ফুটের বেশি লম্বা একটি সাপ তাঁর ডান পায়ে ছোবল মারে। তবে ভয় না পেয়ে বাঁচার প্রবল তাগিদে ওই যুবক সাপটির মাথা চেপে ধরেন এবং পাল্টা কামড় বসিয়ে দেন। সাপটি মারা যাওয়ার পর সেটিকে হাতে নিয়েই মোথাবাড়ির বাঙিটোলা গ্রামীণ হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা দেন ফারুক। অভিযোগ, যুবকের হাতে এত বড় সাপ দেখে ভয়ে কোনও টোটো চালক তাঁকে গাড়িতে তোলেননি। ফলে বাধ্য হয়ে এবং ক্ষুব্ধ অবস্থায় সাপ হাতে প্রায় চার কিলোমিটার পথ হেঁটে হাসপাতালে যান তিনি। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর রাতের দিকে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে মালদহ মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তরিত করা হয়।
মালদহ মেডিক্যাল কলেজের প্রিন্সিপাল ডাঃ পার্থপ্রতিম মুখোপাধ্যায় এই বিষয়ে জানান, মেডিক্যাল কলেজে পর্যাপ্ত সাপে কাটার প্রতিষেধক মজুত রয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রোগীকে হাসপাতালে আনলে প্রাণ বাঁচানো নিশ্চিতভাবেই সম্ভব। ভুল করেও ওঝা বা গুণিনের চক্করে পড়ে সময় নষ্ট না করার জন্য তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যে বিষয়ে স্বাস্থ্য দফতরও নিয়মিত প্রচার চালাচ্ছে। অন্যদিকে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিও ও ছবি দেখে জেলার সর্প বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি, ওই সাপটি আসলে বিষহীন ‘দাঁড়াশ’ (Rat Snake) প্রজাতির ছিল। সেই কারণেই যুবকের শরীরে বিষক্রিয়া ঘটেনি। তবে যেভাবে মাথা চেপে ধরে যুবক পাল্টা কামড় দিয়েছিলেন, তার জেরেই সাপটির মৃত্যু হয়েছে। নজিরবিহীন এই কাণ্ডকে ঘিরে গোটা জেলায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
Advertisement