বারুইপুর কাণ্ডে উত্তাল রাজ্য! মমতাকে আটকাতে কালীঘাটে বিশাল পুলিশ বাহিনী? ক্ষোভে ফুঁসছে তৃণমূল

July 06, 2026
Reading...
দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে ১২ বছরের নাবালিকার বস্তাবন্দি দেহ উদ্ধার ঘিরে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি। ঘটনাস্থলে যাওয়ার পথে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটকাতে বাড়ির
রবিবার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) বাসভবনের বাইরে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছে 'কালীঘাট-তৃণমূল'। এদিন তৃণমূল নেত্রী দোলা সেন অভিযোগ করেন, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে এক নাবালিকার মর্মান্তিক মৃত্যুর পর সেখানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে ওই ঘটনাস্থলে যাওয়া থেকে বিরত করতেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে এই অতিরিক্ত পুলিশি পাহারা বসানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

জানা গিয়েছে, শনিবার বিকেলে এক বান্ধবীর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল ক্লাস সিক্সের ওই ছাত্রী। পরিবারের তরফ থেকে জানানো হয়, তারপর থেকে ওই ১২ বছরের নাবালিকার আর কোনও খোঁজ মেলেনি। পরবর্তীতে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে দেখা যায়, স্থানীয় কয়েকজন যুবকের সঙ্গে ওই ছাত্রী রয়েছে। এরপরই স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের সদস্যরা এক যুবককে ধরে ফেলেন। অভিযোগ, তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পরই নিখোঁজ নাবালিকার দেহের সন্ধান পাওয়া যায়। রবিবার সকালে একটি পুকুর থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় ওই ছাত্রীর মৃতদেহ উদ্ধার হয়।

এই ঘটনার জেরে রবিবার সকাল থেকেই অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর (Baruipur)। রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে, গাছের গুঁড়ি ফেলে এবং মৃতদেহ আটকে রেখে দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ দেখান উত্তেজিত জনতা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়ে আক্রান্ত হয় পুলিশও। খুনের সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে এক ব্যক্তিকে বেধড়ক গণপিটুনি দেয় স্থানীয়রা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। ইতিমধ্যেই এই নাবালিকা খুনের ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ এবং সম্পূর্ণ তদন্তের জন্য একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট (SIT) গঠন করা হয়েছে।

এই গুরুতর পরিস্থিতির মাঝেই এদিন বিস্ফোরক মন্তব্য করেন দোলা সেন। তিনি জানান যে, এক ঘণ্টা আগেই তিনি, শোভনদেব এবং অভিষেক একসঙ্গে বেরিয়েছেন। ধীমানের এলাকায় এমন মর্মান্তিক ঘটনার খবর পেয়ে একজন ৩ বারের মুখ্যমন্ত্রী, ৭ বারের সাংসদ এবং ৬ বারের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেখানে মানুষের পাশে দাঁড়াতে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বারুইপুরের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে যেতে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং রাজ্যে যেন জরুরি অবস্থা বা এমার্জেন্সি চলছে। প্রশাসন ভয় পেয়েই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নজরবন্দি বা হাউজ অ্যারেস্ট (House Arrest) করে আটকানোর চেষ্টা করছে বলে তিনি কড়া ভাষায় তোপ দাগেন।

Advertisement