মুর্শিদাবাদের বহরমপুরের কর্ণসুবর্ণে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা। লেভেল ক্রসিং খোলা থাকায় ট্রেনের ধাক্কায় নিহত ২ শিশু সহ ৩ জন। জানুন মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা
.jpg)
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রেল গেটম্যানের চরম গাফিলতিতেই এমন প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়দের দাবি, ওই কর্মী প্রায়ই মদ্যপ অবস্থায় কর্মরত থাকতেন এবং গেট বন্ধ করার পর খুলতে ভুলে যেতেন, যার জেরে সাধারণ মানুষকে দীর্ঘক্ষণ ভোগান্তি পোহাতে হতো। এদিন দুর্ঘটনার সময়ও তিনি সম্পূর্ণ নেশাগ্রস্ত ছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। দুর্ঘটনার ভয়াবহতা দেখে ক্ষুব্ধ জনতা ওই গেটম্যানকে তাঁর কেবিনের ভেতরেই তালাবন্ধ করে আটকে রাখে। পরবর্তীকালে বহরমপুর থানার পুলিশ এসে তাঁকে উদ্ধার করে এবং গ্রেপ্তার করে।
এই বিপর্যয়ের পর রেলের (Indian Railways) তরফ থেকেও কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে সিগন্যালিং ব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি পাওয়া যায়নি। নিমতিতা-কাটোয়া প্যাসেঞ্জার ট্রেনটি সিগন্যাল মেনেই এগোচ্ছিল। মূলত ইন্টারলকিং গেট পরিচালনার দায়িত্বে থাকা গেটম্যান ও সুপারভাইজারের কর্তব্যে অবহেলার কারণেই এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত গেটম্যান এবং সুপারভাইজারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। গোটা ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের জন্য রেলের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের নিয়ে ১০ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠিত হয়েছে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে শীর্ষ রেল আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। মৃতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা এবং গুরুতর আহতদের আড়াই লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে রেল।
তবে অন্যদিকে, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন মন্ত্রী গৌরীশংকর ঘোষ। তিনি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবার পিছু ৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তা এবং আহতদের সম্পূর্ণ চিকিৎসার ব্যয়ভার বহনের কথা ঘোষণা করেছেন। বর্তমানে বহরমপুর থানা ও রেল পুলিশ যৌথভাবে ওই এলাকার পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে।
Advertisement