টোল প্লাজা হিংসায় অস্বস্তিতে গেরুয়া শিবির, দুই বিজেপি নেতাকে শোকজ

July 12, 2026
Reading...
পশ্চিম মাদাতী টোল প্লাজায় নিয়োগ বিতর্কে বিজেপি কর্মীদের তাণ্ডব। শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলা বিজেপির কড়া পদক্ষেপ!
ঘোষপুকুর ও বিধাননগরের মধ্যবর্তী ২৭ নম্বর জাতীয় সড়কে অবস্থিত পশ্চিম মাদাতী টোল প্লাজায় (Paschim Madati Toll Plaza) ব্যাপক বিশৃঙ্খলার জেরে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করল শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলা বিজেপি (Siliguri BJP)। দলের নিয়ম ভাঙার অভিযোগে ফাঁসিদেওয়া ও জালাস নিজাম তারা মণ্ডলের দুই সভাপতিকে শোকজ করা হয়েছে। সূত্রের খবর, গত বৃহস্পতিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় টোল প্লাজার একটি সিসিটিভি ফুটেজ (CCTV Footage) ছড়িয়ে পড়ে, যদিও ওই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করা হয়নি। সেখানে দেখা যায়, দলীয় পতাকা হাতে একদল বিজেপি কর্মী টোল প্লাজা কর্মীদের ওপর হামলা চালাচ্ছে, এমনকি লাথিও মারা হয়। জানা গিয়েছে, স্থানীয় কর্মী তথা নিজেদের দলের লোকেদের ওই টোল প্লাজায় নিয়োগের দাবিতেই এই তাণ্ডব চলে। আর এই গোটা ঘটনার সময় সেখানে হাজির ছিলেন ফাঁসিদেওয়ার মণ্ডল সভাপতি সঞ্জীব দাস এবং জালাস নিজাম তারা মণ্ডলের সভাপতি বিশ্বনাথ রায়।

এই টোল প্লাজা হিংসার (Toll Plaza Violence) ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই শিলিগুড়ির রাজনৈতিক মহলে তীব্র চর্চা শুরু হয়, যা গেরুয়া শিবিরের অন্দরেও অস্বস্তি বাড়ায়। তবে ফাঁসিদেওয়ার বিজেপি বিধায়ক দুর্গা মুর্মু এই গোটা বিষয়টিকে একটি ‘সামান্য ঘটনা’ বলে লঘু করার চেষ্টা করেন। উলটে তিনি এও স্বীকার করে নেন যে, থানার ওসির উপস্থিতিতেই তিনি টোল কর্তৃপক্ষের কাছে দলীয় কর্মীদের কাজে নেওয়ার কথা বলেছিলেন। আর বিধায়কের এই মন্তব্যের পরেই বিজেপির (BJP) বিরুদ্ধে স্বজনপোষণের অভিযোগ প্রবল হয়ে ওঠে।

পরিস্থিতি হাতের বাইরে যাচ্ছে দেখে অবশেষে আসরে নামে জেলা নেতৃত্ব। শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অরুণ মণ্ডলের কড়া নির্দেশে শনিবার অভিযুক্ত দুই মণ্ডল সভাপতিকে দলীয় কার্যালয়ে ডেকে শোকজ করা হয় এবং তাঁদের কাছে ঘটনার বিশদ ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। এদিন অরুণ মণ্ডল স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, "দলীয় শৃঙ্খলার স্বার্থেই এই পদক্ষেপ। বিজেপিকে তৃণমূল হতে দেব না, দলের অন্দরে কোনও ধরনের অনুশাসনহীনতা বরদাস্ত করা হবে না।" এই শোকজের বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তবে জেলা নেতৃত্বের এই কঠোর সিদ্ধান্তে ফাঁসিদেওয়া বিজেপির অভ্যন্তরে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। এখন এই ঘটনার তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেদিকেই নজর রাখছে রাজনৈতিক মহল।
Advertisement