কাগজের দিন কি শেষ? বাজারে আসছে ১০ ও ২০ টাকার পলিমার নোট, জানুন আরবিআই-এর নতুন নিয়ম!

July 29, 2026
Reading...
ভারতের বাজারে এবার পরীক্ষামূলকভাবে আসছে ১০ ও ২০ টাকার পলিমার বা প্লাস্টিকের নোট। আরবিআই-এর নতুন নিয়ম, প্লাস্টিক নোটের সুবিধা...
নয়াদিল্লি: সংসদে পেশ হওয়া তথ্য অনুযায়ী জানা গিয়েছে, ১৯৩৪ সালের রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া আইনের ২৫ নম্বর ধারা ও আরবিআই-এর সেন্ট্রাল বোর্ডের সুপারিশের ভিত্তিতে পলিমার কারেন্সি বা প্লাস্টিকের নোট (Plastic Note) বাজারে আনার প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে পরীক্ষামূলকভাবে ১০ টাকা এবং ২০ টাকার নোট ছাপা হবে। উভয় মূল্যেরই ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন) পিস করে পলিমার নোট (Polymer Notes) বাজারে আসবে। এই ট্রায়াল সফল হলে পরবর্তীতে নিয়মিতভাবে এই নোটের সরবরাহ বজায় রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে, সরকার জানিয়েছে যে কাগজের নোটগুলি এখনই বাতিল হচ্ছে না; বরং বিকল্প এবং পরিপূরক হিসেবেই কাজ করবে এই নতুন প্লাস্টিকের কারেন্সি (Indian Currency)।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণায় প্রমাণিত যে, সাধারণ কাগজের তুলনায় পলিমার নোটের আয়ু অনেকটাই বেশি। এই নোট সহজে ছেঁড়ে না, নোংরা কম হয় এবং জলে ভিজলেও নষ্ট হয় না। আরবিআই-এর সাম্প্রতিক বার্ষিক রিপোর্ট অনুযায়ী, কাগজের নোটের বিপুল ছাপানোর খরচ এবং ‘সোয়েল্ড নোট’ (Soiled Notes) বা ছেঁড়া-ফাটা নোটের পাহাড় বর্তমানে শীর্ষ ব্যাঙ্কের বড় চিন্তার কারণ। জানা গিয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে শুধুমাত্র কাগজের নোট ছাপাতেই খরচ হয়েছে ৬,৩৭২ কোটি টাকা, যা বিগত বছরগুলির তুলনায় অনেক বেশি। গত অর্থবর্ষেই বাজার থেকে প্রায় ২,৩৮০ কোটি নষ্ট ও ছেঁড়া-ফাটা নোট তুলে ধ্বংস করতে হয়েছে, যার মধ্যে ১০০ ও ৫০০ টাকার নোটের সংখ্যাই ছিল সর্বাধিক। প্লাস্টিক নোট (RBI Plastic Notes) চালু হলে এই বিপুল খরচ এবং নষ্ট হওয়ার প্রবণতা থেকে বড়সড় স্বস্তি মিলবে।

ডিজিটাল পেমেন্ট বা ইউপিআই (UPI) লেনদেনের রমরমা থাকলেও দেশে কিন্তু নগদ টাকার ব্যবহার কমেনি। ২০২৬ সালের মে মাসের মাঝামাঝি পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাজারে এই মুহূর্তে ৪২.৮৬ লক্ষ কোটি টাকা নগদে ঘুরছে, যা একটি রেকর্ড। দৈনন্দিন কেনাকাটার ক্ষেত্রে ১০ এবং ২০ টাকার ছোট নোটের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও, কাগজের নোট দ্রুত নোংরা বা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বাজারে এর জোগান তুলনামূলকভাবে কম। অর্থমন্ত্রক জানিয়েছে, ডিজিটাল লেনদেনের পাশাপাশি কাগজের এবং প্লাস্টিকের নোট একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে।

ভারতে প্লাস্টিক নোট চালুর উদ্যোগ এটাই প্রথম নয়। এর আগে ২০১২ সালে ইউপিএ (UPA) সরকারের আমলেও ৫টি শহরে পরীক্ষামূলকভাবে ১০ টাকার প্লাস্টিক নোট চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তৎকালীন সময়ে এটিএম-এর প্রযুক্তিগত সমস্যা ও প্রসেসিং কাঠামোর অভাবে প্রকল্পটি মাঝপথেই থমকে যায়। তবে এবার সরকার জানিয়েছে, সমস্ত প্রযুক্তিগত জটিলতা ও বাধা দূর করার যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ইতিমধ্যেই বিশ্বের প্রায় ৬০টি দেশে সফলভাবে পলিমার বা প্লাস্টিকের নোটের (Polymer Currency) ব্যবহার চলছে। ১৯৮৮ সালে অস্ট্রেলিয়া প্রথম এই প্লাস্টিক নোট চালু করে। পরবর্তীতে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়ার মতো এশিয়ার দেশগুলি এবং ইউরোপের রোমানিয়া ও কানাডাও পুরোপুরি বা আংশিকভাবে পলিমার কারেন্সির দিকে হেঁটেছে। এবার আনুষ্ঠানিকভাবে সেই তালিকায় ভারতের নামও যুক্ত হওয়ার কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেল।
Advertisement