দীর্ঘ ১৯ বছর পর কলকাতায় তসলিমা নাসরিন! রবীন্দ্রসদনে সংবর্ধনা!

July 31, 2026
Reading...
তসলিমা নাসরিনের কলকাতা ফেরা ঘিরে তুঙ্গে বিতর্ক। দীর্ঘ ১৯ বছর পর কলকাতায় পা রেখে কী বললেন ৬৩ বছর বয়সী এই নির্বাসিত লেখি
জন্মভূমি বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর এককালে কলকাতাকেই নিজের স্থায়ী ঠিকানা বানিয়েছিলেন তসলিমা নাসরিন (Taslima Nasrin)। জানা যায়, তাঁর লেখা আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘দ্বিখণ্ডিত’ নিয়ে প্রবল বিতর্কের সৃষ্টি হলে, ২০০৭ সালে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার প্রবল জনরোষের জেরে তাঁকে এই শহর থেকে চলে যেতে বাধ্য করে। তবে এর পূর্বে ২০০৩ সালে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত হানার অভিযোগে ওই তৎকালীন রাজ্য সরকারই বইটির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। বর্তমানে দীর্ঘমেয়াদি রেসিডেন্সিয়াল পারমিট বা আবাসিক অনুমতি নিয়ে রাজধানী দিল্লিতেই বসবাস করেন ৬৩ বছর বয়সী এই প্রখ্যাত লেখিকা।

​দীর্ঘকাল পর তিলোত্তমায় পা রেখে নিজের আবেগ ব্যক্ত করেছেন তিনি। এদিন তসলিমা জানান যে, নিজের ইচ্ছায় তিনি কখনোই কলকাতা ত্যাগ করেননি, বরং তৎকালীন পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাঁকে বিতাড়িত হতে বাধ্য করেছিল। ফিরে আসার আশা কখনও ছাড়েননি উল্লেখ করে তিনি বলেন, "বহু বছর অতিক্রান্ত হয়েছে, ক্ষমতার পালাবদল ঘটেছে ঠিকই, তবে এতদিন ধরে সেই বন্ধ দরজা আর খোলেনি।"

​জানা গিয়েছে, শনিবার কলকাতার রবীন্দ্রসদনে মৌলবাদ বিরোধী একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। আয়োজক সংস্থার তরফে জানানো হয়, উক্ত মঞ্চে তিনি কবিতাপাঠের পাশাপাশি বিভিন্ন আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন এবং তাঁকে সেখানে নাগরিক সংবর্ধনাও প্রদান করা হবে। এই কর্মসূচিতে রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) এবং প্রখ্যাত সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে খবর।

​এদিকে নির্বাসিত লেখিকার এই বঙ্গ সফর ঘিরে রীতিমতো রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক আখরুজ্জামান তোপ দেগেছেন যে, তসলিমা নাসরিন মুসলিম সমাজের বিরুদ্ধে লাগাতার মন্তব্য করে থাকেন বলেই বর্তমান ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকার তাঁকে এই রাজ্যে সাদরে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে, যার নেপথ্যে স্পষ্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্য লুকিয়ে রয়েছে।

​অন্যদিকে, রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul) লেখিকার এই প্রত্যাবর্তনকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, বিগত সরকারগুলি কখনোই এই লেখিকাকে কলকাতায় ফেরার অনুমতি দেয়নি। যারা মুখে ধর্মনিরপেক্ষতার বুলি আওড়াত, তারাই তসলিমাকে নিরাপত্তা প্রদানে চরম ব্যর্থ হয়েছিল। মন্ত্রী এদিন দাবি করেন, বর্তমান সরকার বাকস্বাধীনতায় বিশ্বাসী এবং তসলিমার বাংলায় ফিরে আসা অত্যন্ত গর্বের বিষয়।

​প্রসঙ্গক্রমে জানা যায়, ইসলাম ধর্মকে অবমাননার দায়ে একসময় বাংলাদেশে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয় এবং তারপর থেকেই তাঁকে দেশান্তরি হয়ে জীবন কাটাতে হচ্ছে। দীর্ঘ সময় পর তসলিমা নাসরিনের কলকাতা ফেরা (Taslima Nasrin Kolkata Return) শুধু নিছক কোনও ব্যক্তিগত সফর নয়, বরং এটি সাহিত্য, রাজনীতি, বাকস্বাধীনতা এবং ধর্মনিরপেক্ষতার মতো বিষয়গুলিকে ফের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। আগামী বেশ কয়েকদিন ধরে বাংলার রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলে তাঁর এই সফরকে কেন্দ্র করে বিস্তর চর্চা চলবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
Advertisement