রাজ্যে পালাবদলের পর স্বাস্থ্যক্ষেত্রে বড় চমক নতুন বিজেপি সরকারের। নবান্নে নিট (NEET) কৃতীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ৪টি নতুন মেডিক্যাল কলেজ, উত্তরবঙ্গে..

জানা গিয়েছে, পড়ুয়াদের পাশাপাশি তাঁদের শিক্ষক এবং অভিভাবকদেরও এদিন অভিনন্দন জানান রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। তাঁর কথায়, এই সাফল্যের আসল রূপকার হলেন শিক্ষক ও অভিভাবকরাই। এদিন হবু চিকিৎসকদের স্বামী বিবেকানন্দের 'চরৈবেতি' আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে জনসেবায় ব্রতী হওয়ার বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের মেধাবী চিকিৎসকরা যাতে পড়াশোনা শেষে ভিন রাজ্যে পাড়ি না দিয়ে পশ্চিমবঙ্গেই থেকে চিকিৎসা পরিষেবা প্রদানে আগ্রহী হন, তার জন্য উন্নত পরিকাঠামো ও কর্মপরিবেশ তৈরির আশ্বাস দেন তিনি। পাশাপাশি, তরুণ চিকিৎসকদের শহরের গণ্ডি ছাড়িয়ে প্রত্যন্ত গ্রামগুলিতেও চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
স্বাস্থ্যখাতে একগুচ্ছ বড় ঘোষণা
এদিন স্বাস্থ্য পরিষেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে একাধিক পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করা হয় রাজ্য সরকারের তরফে। মুখ্যমন্ত্রী জানান:
- ইতিমধ্যে পশ্চিমবঙ্গ আয়ুষ্মান ভারত (Ayushman Bharat) প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এবং জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের আওতায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলির আধুনিকীকরণের কাজ চলছে।
- আগামী দিনে দক্ষিণ দিনাজপুর, পশ্চিম বর্ধমান, আলিপুরদুয়ার ও কালিম্পংয়ে তৈরি হবে ৪টি নতুন মেডিক্যাল কলেজ।
- উত্তরবঙ্গে আরও একটি এইমস (AIIMS) নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়।
- রাজ্যে চিকিৎসা শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে এমবিবিএস (MBBS)-এ আসন সংখ্যাও বৃদ্ধি করা হবে।
সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগ নিয়েও এদিন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আনেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, আদানি গোষ্ঠীর উদ্যোগে নিউটাউনে একটি ২০০০ শয্যা বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক মানের সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল গড়ে উঠবে। ইতিমধ্যে এর জমি হস্তান্তর ও চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। জানা গিয়েছে, এই মেগা হাসপাতালের ১০০০টি বেড আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া রোগীদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সংরক্ষিত থাকবে।
এছাড়া, এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতালে আইসিইউ (ICU) ও শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধির কথা ঘোষণা করা হয়। জেলা হাসপাতাল এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে উন্নতমানের এমআরআই (MRI), স্ক্যান, অপারেশন থিয়েটার ও ডায়ালিসিস ইউনিটের পরিকাঠামো তৈরি করা হবে। চিকিৎসকদের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর্মীদের আবাসন ও কাজের পরিবেশ উন্নত করার দিকেও সরকার বিশেষ জোর দিচ্ছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কৃতীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান থেকে নতুন সরকার স্বাস্থ্যখাতে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের যে রূপরেখা পেশ করল, তা আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্যনীতির অন্যতম মূল ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।
Advertisement