ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে শুরু করলেন 'কেয়া বোলতি পাবলিক' কর্মসূচি। অতিরিক্ত ফি বৃদ্ধি, নিট পরীক্ষা বিতর্ক এবং দেশের রাজনৈতিক...

অভিজিৎ জানিয়েছেন, তাঁদের এই জাতীয় প্রচার অভিযানের প্রাথমিক নজর থাকবে দেশের বর্তমান শিক্ষাকাঠামোর ওপর। স্কুল, কলেজ ও কোচিং সেন্টারগুলির অনিয়ন্ত্রিত ফি বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের কাছে শিক্ষা ব্যবস্থা যেভাবে নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
শিক্ষাক্ষেত্র নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সিজেপি প্রধান প্রশ্ন তোলেন যে, ডোনেশন বাদ দিয়েই প্রথম শ্রেণীতে ভর্তির জন্য বছরে ১ লক্ষ থেকে ২ লক্ষ টাকা দিতে হচ্ছে, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে বহন করা কার্যত অসম্ভব।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, অত্যধিক কলেজ ফি ও প্রাইভেট কোচিংয়ের খরচে সাধারণ পরিবারগুলি দেনার দায়ে জর্জরিত হচ্ছে। এই বিরাট আর্থিক বোঝা থেকে অভিভাবকদের মুক্ত করতেই তাঁদের এই উদ্যোগ। ড. বি আর আম্বেদকরের বক্তব্য স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, শিক্ষা সকল নাগরিকের মৌলিক অধিকার হওয়া উচিত হলেও তা এখন পুরোপুরি লাভজনক ব্যবসায় রূপান্তরিত হয়েছে।
দিল্লির যন্তর মন্তরে হওয়া সাম্প্রতিক প্রতিবাদ আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে দীপকে বলেন, সেই বিক্ষোভ শুধুমাত্র 'নিট' (NEET) পরীক্ষা বা শিক্ষা ব্যবস্থার ত্রুটির বিরুদ্ধে ছিল না, বরং তা ছিল বিগত কয়েক বছরে তৈরি হওয়া সম্পূর্ণ রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি আমজনতার জমে থাকা অসন্তোষের প্রকাশ। ভোটারদের না জানিয়ে নির্বাচন-পরবর্তী দলবদলের রাজনীতির বিরোধিতা করে তিনি বলেন, মানুষ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপর ভরসা হারাচ্ছে।
দেশের বিচারবিভাগের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অভিজিৎ। প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ও শিল্পপতিরা দ্রুত আইনি পরিষেবা পেলেও সাধারণ মানুষকে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয় বলে দাবি করেন তিনি। রাজনীতিতে দল ভাঙানো বা বিধায়ক সংক্রান্ত মামলা আদালতে দ্রুত নিষ্পত্তি হলেও সাধারণ মানুষের আবেদনের বিচারে সেই গতি দেখা যায় না, যা বিচার ব্যবস্থার নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
Advertisement