বকেয়া ডিএ পাননি কারা? কালকের মধ্যে তালিকা জমার কড়া নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের!

August 18, 2026
Reading...
সুপ্রিম কোর্টে ডিএ মামলায় নয়া নির্দেশ। বকেয়া মহার্ঘভাতা না পাওয়া সরকারি কর্মীদের তালিকা চাইল আদালত। পিএফ লকিং পিরিয়ড নিয়ে প্রশ্ন তুললেন বিচারপতিরা।
রাজ্য সরকারি কর্মীদের মহার্ঘভাতা (Dearness Allowance) সংক্রান্ত মামলায় নতুন নির্দেশ জারি করল শীর্ষ আদালত। আবেদনকারীদের মধ্যে যে সকল কর্মচারী এখনও বকেয়া ডিএ-এর টাকা পাননি, তাঁদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা আগামী বুধবারের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বিচারপতি সঞ্জয় করোল ও বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রার বেঞ্চ।

​মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে এই ডিএ মামলার শুনানি প্রক্রিয়া চলে। এদিন শীর্ষ আদালতে রাজ্যের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। শুনানিতে তিনি জানান, বকেয়া মহার্ঘভাতা বাবদ রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে ৭ হাজার ৭০০ কোটি টাকারও বেশি অর্থ প্রদান করা হয়েছে। তুষার মেহতার বক্তব্য অনুযায়ী, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রা কমিটির সুপারিশ মেনে ৬৫ শতাংশ মহার্ঘভাতা আগেই মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং অবশিষ্ট বকেয়া ডিএ-এর অর্থ প্রেরণের প্রস্তুতিও চলছে।

​তবে সরকারি কর্মচারীদের একাংশের আইনজীবী ফিরদৌস শামিম ও করুণা নন্দী এদিন আদালতে পালটা দাবি তুলে জানান, বহু কর্মী এখনও পর্যন্ত প্রাপ্য টাকা হাতে পাননি। সমস্ত সরকারি কর্মচারীকে বকেয়া ডিএ প্রদানের পূর্ব নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও সকলে তা পাননি বলে উল্লেখ করা হয়।

​উভয়পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি সঞ্জয় করোল জানান, জমা পড়া রিপোর্ট অনুসারে ৭ হাজার ৭০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে ঠিকই, তবে এখনও পর্যন্ত যে সমস্ত কর্মী বকেয়া মহার্ঘভাতা থেকে বঞ্চিত, মামলাকারীদের তাঁদের তালিকা আদালতে জমা দিতে হবে।

​এর পাশাপাশি মামলাকারীদের পক্ষ থেকে আদালতকে অবগত করা হয় যে, মহার্ঘভাতার প্রাপ্য অর্থ প্রফিডেন্ট ফান্ড বা পিএফ (PF) অ্যাকাউন্টে দেওয়া হবে এবং কর্মীরা আগামী ২ বছরের পূর্বে সেই অর্থ তুলতে পারবেন না। এই দু'বছরের লকিং পিরিয়ড নির্ধারণ নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তোলে আদালত। কারণ শীর্ষ আদালতের আগের কোনো নির্দেশে এমন শর্তের কথা বলা ছিল না। সমগ্র বিষয়টি নিয়ে রাজ্য সরকারের অবস্থান জানতে চেয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ। জানা গিয়েছে, আগামীকাল বুধবার ফের এই মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বিষয়ে আদালত পরবর্তীতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে।

​এদিকে, রোপা রুল ২০০৯ (ROPA 2009) অনুযায়ী রাজ্য সরকারি সহায়তাপ্রাপ্ত বা সরকার পোষিত (grants-in-aid) কর্মীদের কেন মহার্ঘভাতা দেওয়া হচ্ছে না, সেই ইস্যুতে গত ১৪ আগস্ট কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহার বেঞ্চে মামলা দায়ের করেছে এবিটিএ (অল বেঙ্গল টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন)। যদিও সূত্রের খবর, গ্রান্টস-ইন-এড কর্মীদের মহার্ঘভাতা প্রদানের বিষয়ে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ শুরু করা হয়েছে।

​উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মোতাবেক মার্চ মাসের মধ্যেই রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বকেয়া ডিএ-এর ২৫ শতাংশ অর্থ সরকারি কর্মচারীদের মিটিয়ে দেওয়ার কথা ছিল। পাশাপাশি অবশিষ্ট ৭৫ শতাংশ ডিএ প্রদানের বিষয়ে চূড়ান্ত রূপরেখা নির্ধারণের উদ্দেশ্যে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠনেরও নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতিরা।
Advertisement