হুগলির গোঘাটে পরকীয়া ও দাম্পত্য কলহের জেরে ভয়ংকর ঘটনা। স্বামীর যৌনাঙ্গ টেনে ছিঁড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠল স্ত্রীর বিরুদ্ধে।

সূত্রের খবর, হুগলির গোঘাট এলাকার বাসিন্দা কুন্তল পালের সঙ্গে বছর দুয়েক আগে পারিবারিকভাবে এক যুবতীর বিয়ে হয়। বর্তমানে তাঁদের একটি সন্তানও রয়েছে। জানা গিয়েছে, বিয়ের কিছুদিনের পর থেকেই স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে নিত্যদিন প্রবল অশান্তি লেগে থাকত। স্বামী কুন্তলের অভিযোগ, তাঁর স্ত্রীর অন্য সম্পর্ক রয়েছে এবং গত প্রায় ৬-৭ মাস ধরে স্ত্রী তাঁকে নিজের কাছে শুতে দিতেন না। এদিন রাতে ওই ব্যক্তি স্ত্রীর পাশে শুতে গেলে পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে। অভিযোগ, রাগের মাথায় সেই সময় তাঁর যৌনাঙ্গ সজোরে টেনে ছিঁড়ে ফেলার চেষ্টা করেন স্ত্রী।
আশঙ্কাজনক অবস্থায় আহত যুবককে তড়িঘড়ি কামারপুকুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে আরামবাগ মেডিকেল কলেজে স্থানান্তরিত করেন। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওই ব্যক্তির যৌনাঙ্গ ফুলে সংকুচিত হয়ে গিয়েছে, তবে আপাতত তাঁর প্রাণসংশয়ের কোনও আশঙ্কা নেই।
আহত কুন্তল জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে তাঁর উপর অকথ্য শারীরিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে। এর আগে অশান্তির জেরে এলাকায় সালিশি সভা বসেছিল এবং তাঁদের আলাদা থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তাঁর দাবি, আলাদা থাকার এই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই স্ত্রী অন্য সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। আর সেই কথা জানতে পারাতেই তাঁর উপর অত্যাচারের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। শুধু তাই নয়, কুন্তলের আরও দাবি, এর আগেও তাঁর স্ত্রী তাঁকে নানাভাবে প্রাণে মেরে ফেলার চেষ্টা করেছিলেন। বিষয়টি বারবার শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের জানানো হলেও তাঁরা মেয়েকে বোঝানোর কোনও পদক্ষেপ করেননি।
তবে আশ্চর্যের বিষয় হল, এত বড় মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার পরেও স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদের পথে হাঁটবেন কি না, তা নিয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি কুন্তল। অন্যদিকে, অভিযুক্ত স্ত্রীর তরফে এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
Advertisement