জলপাইগুড়িতে দশম শ্রেণির ছাত্র খুনের ঘটনার পুনর্নির্মাণ, মূল অভিযুক্ত রোহিত সহ গ্রেফতার মোট ৪!

August 20, 2026
Reading...
জলপাইগুড়িতে দশম শ্রেণির ছাত্র মহাদেব খুনের ঘটনার পুনর্নির্মাণ করল পুলিশ। রোহিত হোসেন সহ ৪ জনকে গ্রেফতারের তথ্য এবং পুলিশ সুপারের বয়ান।
জলপাইগুড়ি: দশম শ্রেণির ছাত্র মহাদেব খুনের ঘটনায় অপরাধের পুনর্নির্মাণ সম্পন্ন করল পুলিশ প্রশাসন। তদন্তকারীদের দাবি অনুসারে, ঘটনাস্থলে রোহিত হোসেন নিজ হাতে ধারালো চাকু দিয়ে মহাদেবের গলায় কোপ বসায়। সেই মুহূর্তে উপস্থিত বাকি তিনজন মহাদেবের মাথা ও পা চেপে ধরে রেখেছিল। নৃশংসভাবে হত্যার পর নিথর দেহটি ফেলে রেখে রোহিত এবং তার সঙ্গীরা নিকটবর্তী জমির জমা জলে হাত-পা পরিষ্কার করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
হত্যাকাণ্ডের কারণ প্রসঙ্গে পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, মহাদেবের এক তুতো বোনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিল রোহিত। তবে মহাদেব বিষয়টি নিয়ে প্রবল আপত্তি জানানোর পর সেই সম্পর্ক থেকে সরে আসে ওই তরুণী।

এই ঘটনার জেরেই আক্রোশবশত মহাদেবকে শেষ করে দেওয়ার ছক কষে রোহিত। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মহাদেবের দুই সহপাঠীকেও উস্কানি দিয়ে সঙ্গে নেয় সে, কারণ মহাদেব মাঝেমাঝে তাদের নিয়ে মশকরা করত।
এদিন জলপাইগুড়ির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শ্রীনিবাস এমপি জানান, সম্পূর্ণ প্রতিহিংসা থেকেই এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা তৈরি করেছিল রোহিত হোসেন। ইতিমধ্যে মূল অভিযুক্ত রোহিতের পাশাপাশি আরও তিনজনকে গ্রেফতার করে তাদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা পার্থ মজুমদারের কথায়, এই খুনের পেছনে লাভ জেহাদ দায়ী এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন তাঁরা।

অন্যদিকে সুভাষ ব্যাপারী নামের অপর এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের কথা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি এবং ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়, সেটাই সকলের প্রত্যাশা।
Advertisement