জলপাইগুড়ির গর্ব গীতা কর্মকারের জীবনের গল্পে আবেগপ্লুত দেব!

August 05, 2026
Reading...
জলপাইগুড়ির ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গল জয়ী গীতা কর্মকার এবার জি বাংলার দাদাগিরি মঞ্চে। তাঁর সেবামূলক গল্প শুনে মঞ্চেই জড়িয়ে ধরলেন সুপারস্টার দেব।
গত মে মাসে রাষ্ট্রপতি ভবনে গিয়ে দেশের নার্সিং ক্ষেত্রের সর্বোচ্চ সম্মান 'ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গল' পুরস্কার গ্রহণ করে জলপাইগুড়ির মুখ উজ্জ্বল করেছিলেন গীতা কর্মকার। এবার 'জি বাংলা'র জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো 'দাদাগিরি'র মঞ্চ কাঁপালেন জলপাইগুড়ির এই গর্বিত সন্তান। অনুষ্ঠান চলাকালীন তাঁর জীবনের দীর্ঘ সংগ্রাম ও নিঃস্বার্থ সেবামূলক কাজের বিবরণ শুনে নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি অনুষ্ঠানের সঞ্চালক তথা টলিউডের সুপারস্টার দেব। মঞ্চের মাঝেই সশ্রদ্ধায় তাঁকে জড়িয়ে ধরেন অভিনেতা। সম্প্রচারের পর থেকেই ওই পর্বটি কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ফের নতুন করে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।

এক বিশেষ কথোপকথনে নিজের শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে গিয়ে গীতা দেবী জানান, কোনো পূর্বনির্ধারিত স্ক্রিপ্ট ছাড়াই সম্পূর্ণ নিজের মতো করে জীবনের অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করেছিলেন তিনি। সেটের পিছনের কলাকুশলীদের কঠোর পরিশ্রমের পাশাপাশি জি বাংলা পরিবারের আন্তরিক আপ্যায়নে তিনি আপ্লুত। তবে পুরো ঘটনার মাঝে দেবের অসামান্য বিনয়ী আচরণ তাঁর হৃদয় ছুঁয়ে গিয়েছে। গীতা দেবীর ভাষায়, “দেবের মনে কোনো অহংকার নেই, একবারে শিশুর মতো সরল তাঁর ব্যবহার। প্রতিটি মানুষের সঙ্গে তিনি যেভাবে মিশে যান, তা সত্যি প্রশংসনীয়।” শুটিং চলার দিনে বিশ্বকাপ ফুটবলের চূড়ান্ত উত্তেজনার আবহ থাকা সত্ত্বেও, গীতা দেবীর বোনের অনুরোধ রক্ষা করে ডেকে নিয়ে সস্নেহে ছবি তোলেন এই অভিনেতা।

ঝড়-জলকে পরোয়া না করে জলপাইগুড়ির ডেঙ্গুয়াঝাড় চা বাগানের প্রান্তিক স্তরের মানুষদের সেবায় স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে জীবনের সিংহভাগ সময় অতিবাহিত করেছেন গীতা কর্মকার। সেই সাধারণ জীবন থেকে সোজা রাষ্ট্রপতি ভবনে সফর এবং পরবর্তীতে রিয়েলিটি শো-এর মতো বিশাল মঞ্চে উপস্থিতি—এই পুরো অভিজ্ঞতাকে রূপকথার মতো মনে করছেন তিনি। গীতা দেবী বলেন, “রাষ্ট্রপতি ভবনে উপস্থিতি যেমন জীবনের এক তীর্থদর্শনের মতো অনুভূতি এনে দিয়েছিল, তেমনই দাদাগিরির মঞ্চে আমজনতার এই অপরিসীম ভালোবাসাও ঈশ্বরের পরম আশীর্বাদস্বরূপ।”

কোনো প্রকার অহংকার বা আত্মতুষ্টিকে প্রশ্রয় না দিয়ে, অত্যন্ত বিনয়ের সাথে নিজের সমস্ত প্রাপ্তি তিনি সাধারণ মানুষের উদ্দেশে উৎসর্গ করেছেন। কোনো ব্যক্তিগত পাওয়ার আশা না রেখে সর্বদা নিজের ১০০ শতাংশ উজাড় করে মানুষের সেবা করে গিয়েছেন তিনি। জলপাইগুড়ির এক প্রান্তিক চা বাগান থেকে দিল্লির দরবার হয়ে আজ বিনোদন জগতের সবচেয়ে বড় মঞ্চে পৌঁছানো গীতা কর্মকারের এই অনুপ্রেরণাদায়ী জীবনের সফর আজ লক্ষ লক্ষ মানুষকে নতুন করে আলোড়িত করছে।
Advertisement