জলপাইগুড়ির ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গল জয়ী গীতা কর্মকার এবার জি বাংলার দাদাগিরি মঞ্চে। তাঁর সেবামূলক গল্প শুনে মঞ্চেই জড়িয়ে ধরলেন সুপারস্টার দেব।

এক বিশেষ কথোপকথনে নিজের শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে গিয়ে গীতা দেবী জানান, কোনো পূর্বনির্ধারিত স্ক্রিপ্ট ছাড়াই সম্পূর্ণ নিজের মতো করে জীবনের অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করেছিলেন তিনি। সেটের পিছনের কলাকুশলীদের কঠোর পরিশ্রমের পাশাপাশি জি বাংলা পরিবারের আন্তরিক আপ্যায়নে তিনি আপ্লুত। তবে পুরো ঘটনার মাঝে দেবের অসামান্য বিনয়ী আচরণ তাঁর হৃদয় ছুঁয়ে গিয়েছে। গীতা দেবীর ভাষায়, “দেবের মনে কোনো অহংকার নেই, একবারে শিশুর মতো সরল তাঁর ব্যবহার। প্রতিটি মানুষের সঙ্গে তিনি যেভাবে মিশে যান, তা সত্যি প্রশংসনীয়।” শুটিং চলার দিনে বিশ্বকাপ ফুটবলের চূড়ান্ত উত্তেজনার আবহ থাকা সত্ত্বেও, গীতা দেবীর বোনের অনুরোধ রক্ষা করে ডেকে নিয়ে সস্নেহে ছবি তোলেন এই অভিনেতা।
ঝড়-জলকে পরোয়া না করে জলপাইগুড়ির ডেঙ্গুয়াঝাড় চা বাগানের প্রান্তিক স্তরের মানুষদের সেবায় স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে জীবনের সিংহভাগ সময় অতিবাহিত করেছেন গীতা কর্মকার। সেই সাধারণ জীবন থেকে সোজা রাষ্ট্রপতি ভবনে সফর এবং পরবর্তীতে রিয়েলিটি শো-এর মতো বিশাল মঞ্চে উপস্থিতি—এই পুরো অভিজ্ঞতাকে রূপকথার মতো মনে করছেন তিনি। গীতা দেবী বলেন, “রাষ্ট্রপতি ভবনে উপস্থিতি যেমন জীবনের এক তীর্থদর্শনের মতো অনুভূতি এনে দিয়েছিল, তেমনই দাদাগিরির মঞ্চে আমজনতার এই অপরিসীম ভালোবাসাও ঈশ্বরের পরম আশীর্বাদস্বরূপ।”
কোনো প্রকার অহংকার বা আত্মতুষ্টিকে প্রশ্রয় না দিয়ে, অত্যন্ত বিনয়ের সাথে নিজের সমস্ত প্রাপ্তি তিনি সাধারণ মানুষের উদ্দেশে উৎসর্গ করেছেন। কোনো ব্যক্তিগত পাওয়ার আশা না রেখে সর্বদা নিজের ১০০ শতাংশ উজাড় করে মানুষের সেবা করে গিয়েছেন তিনি। জলপাইগুড়ির এক প্রান্তিক চা বাগান থেকে দিল্লির দরবার হয়ে আজ বিনোদন জগতের সবচেয়ে বড় মঞ্চে পৌঁছানো গীতা কর্মকারের এই অনুপ্রেরণাদায়ী জীবনের সফর আজ লক্ষ লক্ষ মানুষকে নতুন করে আলোড়িত করছে।
Advertisement