ঘুমন্ত মহিলার মাথা কামড়ে ৩০০ মিটার টেনে নিয়ে গেল বাঘ!

August 03, 2026
Reading...
মধ্যপ্রদেশের বালাঘাটে ভয়াবহ বাঘের হানা। কানহা জাতীয় উদ্যানের কাছে পররাপুর বৈগাটোলা গ্রামে ঘুমন্ত মহিলার মাথা কামড়ে ৩০০ মিটার টেনে নিয়ে গেল বাঘ।
রবিবার ভোররাতে এক হাড়হিম করা ঘটনার সাক্ষী থাকল মধ্যপ্রদেশের (Madhya Pradesh) বালাঘাট জেলা। সূত্রের খবর, এদিন গভীর রাতে নিজের কুঁড়েঘরে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন প্রায় তিরিশ বছর বয়সী এক মহিলা। সেই সময়েই আচমকা সেখানে হানা দেয় একটি বাঘ (Tiger Attack)। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওই ঘুমন্ত মহিলার মাথা কামড়ে ধরে জঙ্গল লাগোয়া এলাকার দিকে প্রায় ৩০০ মিটার টেনে নিয়ে যায় হিংস্র পশুটি। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মর্মান্তিক মৃত্যু হয় বলে জানা গিয়েছে।

জানা গিয়েছে, ভয়াবহ এই বাঘের হামলার ঘটনাটি ঘটেছে কানহা জাতীয় উদ্যানের (Kanha National Park) খাপা রেঞ্জের অধীনে থাকা পররাপুর বৈগাটোলা গ্রামে। জেলা সদর থেকে যার দূরত্ব আনুমানিক ৮০ কিলোমিটার। মৃতার নাম সুগনি বাই ধুরভে। ঘড়ির কাঁটায় তখন রাত প্রায় দেড়টা বাজে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুগনি একটি কুঁড়েঘরে ঘুমোচ্ছিলেন। বাঘটি অতর্কিতে সেখানে প্রবেশ করে তাঁর মাথা কামড়ে ধরে হিঁচড়ে বাইরে নিয়ে যেতে শুরু করে।

এই ভয়ানক পরিস্থিতিতে পরিবারের সদস্যদের আর্তনাদ শুনে গ্রামের লোকজন টর্চ হাতে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। মানুষের ভিড় দেখে এবং স্থানীয়দের তাড়া খেয়ে বাঘটি প্রায় ৩০০ মিটার দূরে ওই মহিলাকে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে জঙ্গলের দিকে পালিয়ে যায়। এরপর স্থানীয় বাসিন্দারাই অত্যন্ত গুরুতর জখম অবস্থায় সুগনি বাইকে উদ্ধার করে বাইহারের একটি হাসপাতালে ভরতি করেন। তবে মাথায় চোট অত্যন্ত গুরুতর থাকায়, সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।

কানহা জাতীয় উদ্যানের সিজহোরা বাফার জোনের সহকারী অধিকর্তা জানিয়েছেন, এই মর্মান্তিক ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট পেশ করা হবে। ইতিমধ্যেই পুলিশ একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্তভার হাতে নিয়েছে। বন দফতরের দাবি, বিগত বেশ কয়েক মাস ধরেই ওই নির্দিষ্ট এলাকায় বাঘ এবং চিতাবাঘের লোকালয়ে প্রবেশ করার একাধিক ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। তবে সরকারি নিয়মবিধি মেনে নিহত মহিলার পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

বন দফতর এদিন আরও জানিয়েছে যে, নিরাপত্তার স্বার্থে এলাকায় একটি খাঁচা পাতা হবে এবং টহলদারি আরও জোরদার করা হবে। পাশাপাশি, রাতের বেলা ঘরের দরজা সর্বদা বন্ধ রাখা, অকারণে জঙ্গলের দিকে না যাওয়া এবং বাড়িতে থাকা শিশু ও প্রবীণদের একা না রাখার জন্য বাসিন্দাদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের তরফে গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, নিহত সুগনি বাই ধুরভের পরিবার যে কুঁড়েঘরটিতে বসবাস করত, তাতে কোনও দরজাই ছিল না। কেন্দ্র সরকারের তরফে অত্যন্ত পিছিয়ে পড়া ও ঝুঁকিপূর্ণ আদিবাসী সম্প্রদায়ের জন্য যে আবাসন এবং উন্নয়ন প্রকল্প চালু রয়েছে, তার কোনও সুবিধাই এই পরিবারটি পায়নি। ফলস্বরূপ, তাঁদের সুরক্ষার কোনও ব্যবস্থাই ছিল না।
Advertisement