বীজপুরে ভয়াবহ বিক্ষোভের মুখে মমতা! পুলিশি হেপাজতে তৃণমূল কর্মীর মৃত্যু ঘিরে উত্তপ্ত হালিশহর!

August 09, 2026
Reading...
উত্তর ২৪ পরগনার হালিশহরে পুলিশি হেপাজতে তৃণমূল কর্মীর মৃত্যু। শোকাহত পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে বীজপুরে ভয়াবহ বিক্ষোভের মুখে...
কাঁচরাপাড়া পুরসভার এক তৃণমূল কর্মীর পুলিশি হেপাজতে মৃত্যুর পর রবিবার উত্তর ২৪ পরগনার হালিশহরে তাঁর শোকস্তব্ধ পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এদিন সেখানে যাওয়ার পথেই বীজপুরে তাঁকে ভয়াবহ বিক্ষোভের সম্মুখীন হতে হয়। জানা গিয়েছে, স্থানীয়রা তাঁর গাড়ি ঘিরে ফেলেন এবং ‘চোর-চোর’ স্লোগান দিতে থাকেন। এমনকি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর গাড়ি লক্ষ্য করে ছেঁড়া চটি ও কাদা ছোড়া হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এই অনভিপ্রেত ঘটনার জন্য সরাসরি বিজেপিকে নিশানা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, শাসক শিবিরের মদতপুষ্ট 'লুম্পেন' এবং 'গুন্ডা'রাই এই কাণ্ড ঘটিয়েছে, আর পুলিশ তাদেরই নিরাপত্তা প্রদান করছে। ক্ষোভ উগরে দিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘লুম্পেনদের প্রোটেকশন দিচ্ছে পুলিশ! বাংলা তো লুম্পেনদের হাতে চলে গিয়েছে। আমরা কেস করব।’’ গাড়িতে ইট ছোড়া হয়েছে দাবি করে তিনি আরও জানান, ‘‘আমার মাথা ফেটে যেত। এখানে খানে মরে যেতাম।’’

এদিন মমতার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন লোকসভার সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেন এবং নেত্রী উপাসনা চৌধুরী। রাজ্যের বর্তমান পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং প্রশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র তোপ দেগে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, ‘‘শুভেন্দু অধিকারী পুলিশ দিয়ে রাজত্ব চালাচ্ছেন। মাফিয়াদের দিয়ে কাজ করাচ্ছেন।’’

পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় বীজপুরের রাস্তায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর গাড়ির চারপাশে বলয় তৈরি করতে বাধ্য হয় পুলিশ প্রশাসন। অন্যদিকে, এই বিক্ষোভ প্রসঙ্গে বিজেপির পাল্টা যুক্তি হলো, এলাকায় প্ররোচনা সৃষ্টি করতেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এসেছিলেন, তাই আমজনতা স্বতঃস্ফূর্তভাবে তার প্রতিবাদ জানিয়েছে।

জানা গিয়েছে, তোলাবাজির অভিযোগে হালিশহর থানার পুলিশ ওই তৃণমূল কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছিল। এরপর শুক্রবার আদালত অভিযুক্তকে পাঁচ দিনের পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দেয়। কিন্তু শনিবার আচমকাই লকআপের ভিতর তাঁর মৃত্যু হয়। মৃতের পরিজনদের সরাসরি অভিযোগ, পুলিশের অমানবিক মারধরের কারণেই তাঁর প্রাণ গিয়েছে। যদিও এই বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া বা বিবৃতি দেওয়া হয়নি। রবিবার কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে মৃত কর্মীর স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাক্ষাতের পর তিনি মন্তব্য করেন, ‘‘এ রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা বলে আর কিছু নেই।’’

এই গোটা বিক্ষোভ পর্বের সমালোচনা শোনা গিয়েছে রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের মুখে। তিনি জানিয়েছেন, “এটা করা যায় না। এটা বাংলার রীতি নয়।” ঘটনার নিন্দা করেছেন রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালও। তবে পাশাপাশি তৃণমূল আমলের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিগত ১৫ বছর ধরে অনেক ভুল করেছেন, নারীদের সম্মান রক্ষা করতে পারেননি বা সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার চালিয়েছেন। এমনকী অভয়ার মৃত্যুর দিনটিতেও তিনি সঠিক বিচার দিতে পারেননি। কিন্তু তাই বলে তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে কাদা ছোড়া, ‘চোর’ স্লোগান দেওয়া বা জুতো ছোড়া কোনওভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।”
Advertisement