নাগরাকাটায় ভুটান পাহাড়ের হরপা বানে ভেসে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা পেলেন ৪ শ্রমিক ও ১ তরুণ। জানুন কীভাবে আর্থ মুভার ও বীর রাজেশ ওরাওঁ বাঁচালেন ৫টি প্রাণ

গত সোমবার থেকে সড়ক সুরক্ষায় বোল্ডার বাঁধার কাজ করছিলেন তাঁরা। জল বাড়তে দেখে শ্রমিকেরা তড়িঘড়ি নদীতে দাঁড়িয়ে থাকা আর্থ মুভারে আশ্রয় নেন এবং চালক তাঁদের নিরাপদে পাড়ে নিয়ে আসেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, খামখেয়ালি বালুখোলা নদীর গতিবিধি বোঝা অসম্ভব। প্রতি বছর বর্ষায় রূপ বদলানো এই নদীর বিধ্বংসী স্রোতে অতীতে পুরনো সেতু ও ডাইভারসন ভেঙেছে। এমনকি গত বছরের ৪ অক্টোবরের বন্যায় ২ নম্বর লাইন, মহেন্দ্রধূড়া, ছাড়টন্ডু বস্তী এবং একটি সরকারি প্রাথমিক স্কুল ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় গাইড বাঁধ তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল।
অন্য একটি ঘটনায়, ক্যারনের গেট লাইনের বাসিন্দা ১৮ বছর বয়সী তরুণ আরমান সুরি কাপলি দুপুরে লুকসান বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে ক্যারন চা বাগান সংলগ্ন চুপাতাং নদীর তীব্র স্রোতে আটকে পড়েন। দীর্ঘক্ষণ একটি পাথরের ওপর অসহায় অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকা ওই তরুণকে বাঁচাতে ভিড় জমলেও বিশাল স্রোতের কারণে কেউ এগোতে সাহস পাননি।
সেই চরম বিপদের মুখে দাঁড়িয়ে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উত্তাল নদী সাঁতরে পৌঁছান রাজেশ ওরাওঁ নামের এক ব্যক্তি এবং তরুণকে অক্ষত অবস্থায় পাড়ে ফিরিয়ে আনেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার খবর পেয়ে নাগরাকাটা থানার পুলিশ দ্রুত সেখানে উপস্থিত হয় এবং রাজেশের সাহসিকতাকে সকলে সাধুবাদ জানিয়েছেন। কোনো বড়সড় বিপর্যয় না ঘটলেও এদিন একইভাবে গাঠিয়া ও কুজি ডায়নার মতো অন্যান্য পাহাড়ি নদীগুলিও জলস্ফীতির কারণে অত্যন্ত ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছিল।
Advertisement