নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হড়পা বানের ধ্বংসলীলা! ৬১৬ জনের মৃত্যু, নিখোঁজ ৩ হাজারেরও বেশি মানুষ!

August 29, 2026
Reading...
নেপালের রাসুয়া জেলায় ভোটেকোশী নদীতে হিমবাহ ধসে ভয়াবহ হড়পা বান। গিরং অভিবাসন দপ্তর নিশ্চিহ্ন। ৬১৬ জনের মৃত্যু, নিখোঁজ ৩ হাজারেরও বেশি ভারতীয়...
নেপালের রাসুয়া জেলায় ভোটেকোশী নদীতে হিমবাহ ধসের জেরে এক ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে এসেছে। শনিবার সকাল পর্যন্ত এই ধ্বংসলীলায় ৬১৬ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে নেপাল পুলিশ। জানা গিয়েছে, নিখোঁজের সংখ্যা ইতিমধ্যেই ৩ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে। এই বিপুল সংখ্যক নিখোঁজদের মধ্যে একাধিক ভারতীয় পুণ্যার্থী ও নাগরিক রয়েছেন বলে খবর। এই অত্যন্ত চিন্তাজনক পরিস্থিতির মধ্যে এদিন নেপাল-তিব্বত সীমান্তের গিরংয়ে (Nepal Tibet Border Girung Disaster) পৌঁছতে সক্ষম হয়েছে চিনের ২১ সদস্যের একটি বিশেষ উদ্ধারকারী দল। দুর্গম উপত্যকা, পাহাড় এবং গভীর জঙ্গলের পথ পেরিয়ে তারা ওই ধ্বংসস্তূপে এসে পৌঁছেছে। কাদা ও পাথরের বিশাল স্তূপের নিচে প্রাণের স্পন্দন খুঁজতে তাদের সঙ্গে একটি প্রশিক্ষিত স্নাইফার ডগও আনা হয়েছে।

কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রীদের ছাড়পত্র দেওয়া ও নথিপত্র পরীক্ষার জন্য গিরং চেকপয়েন্টটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত একটি এলাকা। ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এর প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত বুধবার সকাল পৌনে ৯টা নাগাদ প্রায় চার-পাঁচ তলা সমান উঁচু কাদা, পাথর ও জলের এক ভয়াল স্রোত আছড়ে পড়ে সাদা রঙের ওই সরকারি বহুতলটির ওপর। চোখের পলকে, মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে আস্ত অভিবাসন দপ্তরটিকে গিলে খায় এই পাহাড়ি হড়পা বান, যা সিসিটিভি ক্যামেরার শিউরে ওঠার মতো দৃশ্যে ধরা পড়েছে। সেই সময় ওই ভবনে প্রায় ১৩০ জন উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি, অন্তত ৫০ জনের বেশি ভারতীয় পুণ্যার্থী কৈলাসে যাওয়ার জন্য সেখানে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

বানের জল নেমে যাওয়ার পর বর্তমানে সেখানে কেবলই ধ্বংসের ক্ষতচিহ্ন অবশিষ্ট রয়েছে। চিনা উদ্ধারকারী দলের অন্যতম সদস্য জোউ মিঙ্কি জানিয়েছেন, মূল রাস্তাগুলি হড়পা বানে সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ায় ঘুরপথে বহু বাধা অতিক্রম করে তাঁদের এই অঞ্চলে পৌঁছতে হয়েছে। ভোটেকোশী নদীর তীরে যেখানে চকচকে ভবনটি দাঁড়িয়ে ছিল, আজ সেখানে কিছুই নেই। তাঁর কথায়, দেখে মনে হচ্ছে যেন কোনো এক বিশাল শক্তি গোটা এলাকাটিকে পিষে দিয়ে গিয়েছে। বর্তমানে কাদা ও ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে প্রাণের চিহ্ন খুঁজতে মরিয়া হয়ে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন কর্মীরা।
Advertisement