নেপাল ও তিব্বতে ভয়াবহ হড়পা বানে নিখোঁজ ১৩০০-র বেশি মানুষ। নিখোঁজের তালিকায় রয়েছেন কলকাতা ও আরামবাগের বহু পর্যটক।

কাঠমান্ডু প্রশাসনের তরফে শুরুতে ভোটেকোশী নদীর বানে ৯৫ জনের মৃত্যুর কথা জানানো হলেও, পিটিআই-এর শেষ আপডেটে মৃতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পর্যটন বোর্ডের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ৩৮৪ জন পর্যটকের খোঁজ মিলছিল না, যার মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি (১০৫ জন ভারতীয়) এবং ৯৩ জন নেপালি নাগরিক।
তবে, বৃহস্পতিবার নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল জানান, ৩০০-র বেশি ভারতীয় নিখোঁজ। বিভিন্ন প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, রাসুয়া অঞ্চলে হাজার হাজার মানুষের সন্ধান নেই। সার্বিকভাবে প্রায় ৭৫০ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে একটি পরিসংখ্যানে জানা গিয়েছে, যেখানে ১৩৩ জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন। নেপাল-চিন সীমান্তে উদ্ধারকাজ জারি রয়েছে।
নেপালের সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৪০ জনের বেশি ভারতীয় এই ভয়াবহ বিপর্যয়ে নিখোঁজ হয়েছেন। ২১ অগস্ট কলকাতা থেকে কৈলাস-মানস সরোবরের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া ৩২ জনের একটি দল নিখোঁজ। ৩০ জন পর্যটক এবং ২ জন ট্যুর ম্যানেজারের এই দলটি বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার পর থেকে আর যোগাযোগ করতে পারেনি।
গত ২৪ অগস্ট আরামবাগ থেকে বাসে করে নেপালে যাওয়া ৬৫ জনের একটি দলেরও কোনও খোঁজ মিলছে না। তাঁদের ইন্টারন্যাশনাল চেতন পার্ক, মনোকামনা মন্দির ও জনকপুর হয়ে দেওঘর দিয়ে ফেরার কথা ছিল। ট্রাভেল এজেন্সির তরফে নেপালের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে।
বাংলার পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ জানিয়েছেন, রাজ্যের কোনও বাসিন্দা আটকে আছেন কি না, তা জানতে প্রশাসন তৎপর রয়েছে, তবে এখনও নির্দিষ্ট তথ্য মেলেনি। অন্যদিকে, পর্যটকদের নিরাপদে ফেরাতে ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম চালু করেছে উত্তরপ্রদেশ সরকার।
এই সংকটজনক পরিস্থিতিতে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহের সঙ্গে ফোনে কথা বলে সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি জানিয়েছেন, এই কঠিন সময়ে ভারত সরকার সমস্ত রকম মানবিক সহায়তা দিতে প্রস্তুত।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও শোক প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, বিপর্যয় মোকাবিলায় ভারত নেপালের পাশে রয়েছে। তিনি বিহার ও উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। হাওয়া অফিসের সতর্কবার্তার পর হড়পা বানের আশঙ্কায় বিহারে ৯টি এবং উত্তরপ্রদেশে ১১টি এনডিআরএফ (NDRF) দল মোতায়েন করা হয়েছে।
ভারতীয় বায়ুসেনার তরফে ১০ টন জরুরি চিকিৎসা ও ত্রাণসামগ্রী নিয়ে একটি C-130J বিমান নেপালে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি, উদ্ধারকাজের জন্য অতিরিক্ত C-17, C-130 বিমান এবং বেশ কয়েকটি হেলিকপ্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
নেপালের পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করতে দেশের ব্যবসায়ী, যুবসমাজ, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ নাগরিকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ। এক লিখিত বার্তায় তিনি বন্যা কবলিত এলাকার মানুষদের আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন যে, এই কঠিন সময়ে সরকার সম্পূর্ণভাবে তাঁদের পাশে রয়েছে।
নিখোঁজ ভারতীয় পর্যটকদের বিষয়ে তথ্য জানতে জরুরি ভিত্তিতে কাঠমান্ডুর ভারতীয় দূতাবাস দুটি হেল্পলাইন নম্বর চালু করেছে: +977 985 131 6807 & +977 970 910 7500
Advertisement