প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে প্রাতঃরাশ বৈঠকে যোগ দিলেন এনসিপিআই সাংসদেরা। রাজ্য উন্নয়ন, স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং আঞ্চলিক নানা দাবি নিয়ে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে

বৈঠক চলাকালীন পশ্চিমবঙ্গের হারিয়ে যাওয়া গৌরব পুনরায় ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে জোর দেন নরেন্দ্র মোদি। সেই সঙ্গেই সংসদে উপস্থিতি বাড়ানোর বার্তা দেন তিনি। প্রাতঃরাশ শেষে বেরিয়ে প্রবীণ সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, অত্যন্ত হৃদ্যতাপূর্ণ আবহে বৈঠকটি সম্পন্ন হয়েছে। পূর্বাঞ্চলের সামগ্রিক প্রগতিতে প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, উপস্থিত সাংসদদের মধ্যে কারা নিয়মিত যোগব্যায়াম করেন তা জানতে চান তিনি এবং স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়ার তাগিদ দেন। নিজের নিজের লোকসভা এলাকায় সময় ব্যয় করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করে সাংসদ শতাব্দী রায় জানান, চা ও পায়েসের আমেজে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি সকলের কাছ থেকে ইতিবাচক অবদানের প্রত্যাশা করেছেন। অন্যদিকে সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, নিজের জীবনযাত্রার সাধারণ পটভূমির কথা স্মরণ করিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছেন মোদি। ৪০ বছর বয়সের পর প্রতিদিন যোগাসন করা এবং বছরে অন্তত একবার সম্পূর্ণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
সাংসদ কাকলি জানান, পূর্ব ভারতের কাঁচামাল ও শ্রমিকদের ওপর নির্ভর করে পশ্চিমাঞ্চল সমৃদ্ধ হলেও এবার সেই ধারা পরিবর্তনের আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। কলকাতা, পটনা, ভুবনেশ্বর ও গুয়াহাটির মতো প্রধান শহরগুলোর বিপুল পরিকাঠামোগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন মোদি।
সংসদীয় এলাকার উন্নয়ন তহবিল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী। কেন্দ্রের বরাদ্দ করা ৫ কোটি টাকার ওপর ১৮ শতাংশ জিএসটি কাটার ফলে স্থানীয়দের কাছে কম অর্থ পৌঁছানোর বিষয়টি তুলে ধরে ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপের আর্জি জানান তিনি।
অন্য এক প্রসঙ্গে সাংসদ আবু তাহের জানান, মুর্শিদাবাদ জুড়ে শব্দদূষণের দোহাই দিয়ে মসজিদের মাইক বন্ধ করা নিয়ে যে সমস্যা তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দিষ্ট মাত্রা মেনে চলা সত্ত্বেও আজান বন্ধের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে দেশের দুই শীর্ষ পদাধিকারীর কাছে অনুযোগ জানান ৩ সাংসদ, যা খতিয়ে দেখার আশ্বাস মিলেছে। পাশাপাশি তারা পরিষ্কার করে জানিয়ে দেন, তারা এনসিপিআই-এর সঙ্গেই রয়েছেন এবং এনডিএ বা বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কোনো প্রশ্ন নেই। পূর্বে এই ইস্যুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গেও তাদের আলোচনা হয়েছিল।
Advertisement