রাজগঞ্জের আমবাড়িতে চাঞ্চল্যকর ঘটনা! বিয়ের মাত্র ৬ মাসের মাথায় স্ত্রীকে কুপিয়ে খুন করে আত্মহত্যার চেষ্টা স্বামীর। ভোরের আলো থানার পুলিশের তদন্ত!

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হলদিবাড়ি নিবাসী ভবতোষ বিশ্বাসের ঘরণী হয়ে এসেছিলেন রাজগঞ্জের বিন্নাগুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত আমবাড়ির ভাটপাড়ার সোনালী বিশ্বাস। পরিবার সূত্রে খবর, বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই কোনও একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিবাদ লেগেই থাকত। ফলস্বরূপ, দিনকয়েক আগে বাপের বাড়িতে ফিরে আসেন সোনালী।
সোমবার স্ত্রীকে নিজের বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার অছিলায় শ্বশুরবাড়িতে হাজির হন ভবতোষ। অভিযোগ, ওইদিন রাতেই সোনালীকে বাড়ির পাশের একটি ছাদে ডেকে নেন তিনি। সেখানেই তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে নির্মমভাবে কুপিয়ে খুন করা হয়। এরপর ঘাতক স্বামী নিজেও বিষপান করে আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
রাতের অন্ধকারে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনার বিন্দুমাত্র আঁচ পাননি সোনালীর বাড়ির লোকজন। তাঁরা ভেবেছিলেন, দম্পতি হয়তো হলদিবাড়িতেই ফিরে গিয়েছেন। তবে মঙ্গলবার সকাল গড়ালেও মেয়ের কোনও ফোন না আসায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। এরপরই শুরু হয় আশপাশে খোঁজখবর। অবশেষে পাশের ছাদের ওপর সোনালীর রক্তাক্ত মৃতদেহ আবিষ্কার করেন তাঁরা। পাশেই সংজ্ঞাহীন অবস্থায় পড়েছিলেন ভবতোষ।
এই হাড়হিম করা জোড়া ঘটনার খবর চাউর হতেই গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। খবর পেয়ে এদিন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে ভোরের আলো থানার পুলিশ। মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের উদ্দেশ্যে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি, সংজ্ঞাহীন ভবতোষকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।
পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল থেকে খুনে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র ও বিষের বোতল সহ একাধিক নমুনা সংগ্রহ করেছে। উদ্ধার হওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড ঘটল এবং দাম্পত্য কলহের নেপথ্যে অন্য কোনও রহস্য লুকিয়ে আছে কি না, তা উদঘাটনে জোরদার তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।
Advertisement