রাজগঞ্জের চাউলহাটি সীমান্তে চাঞ্চল্য, জিরো ল্যান্ড থেকে ভারতীয় কৃষককে ‘অপহরণ’ বাংলাদেশিদের!

August 09, 2026
Reading...
জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জ ব্লকের চাউলহাটি সীমান্তে নিজের চা বাগানে কাজ করতে গিয়ে বাংলাদেশিদের হাতে অপহৃত ভারতীয় কৃষক দীপঙ্কর গোপ। বিএসএফ ও পুলিশের তৎপরতা!
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নিজের কৃষি জমিতে কাজ করতে গিয়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের হাতে এক ভারতীয় যুবকের ‘অপহৃত’ হওয়ার অভিযোগ উঠল। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ ব্লকের কুকুরজান অঞ্চলের তসর মোহাম্মদ পাড়ায়। এই অপহরণের খবর চাউলহাটি সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়তেই ব্যাপক আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। জানা গিয়েছে, অপহৃত ওই কৃষকের নাম দীপঙ্কর গোপ। এদিন এই ঘটনার পর থেকে নিখোঁজ ওই যুবককে নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন তাঁর পরিবার এবং সীমান্তবর্তী এলাকার সাধারণ মানুষ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার সকাল ১০টা নাগাদ ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তের গেট পার হয়ে জিরো ল্যান্ডে থাকা নিজের জমিতে গিয়েছিলেন দীপঙ্কর। অভিযোগ, কাঁটাতারের ওপারে অবস্থিত নিজস্ব চা বাগানে ওষুধ স্প্রে করার সময় হঠাৎই কয়েকজন বাংলাদেশি তাঁকে আটকে দেয়। এরপর জোরপূর্বক তাঁকে বাংলাদেশের দিকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ।

এই অপরহণ কাণ্ডের নেপথ্যে কয়েকদিন আগের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে ‘বদলা’ বা প্রতিশোধের তত্ত্ব উঠে আসছে। সূত্রের খবর, দিন কয়েক আগে এক বাংলাদেশি বৃদ্ধা ভারতে ঢুকে পড়লে বিএসএফ (BSF) তাঁকে আটক করেছিল। দাবি করা হচ্ছে, আটক ওই বৃদ্ধাকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দিলেই দীপঙ্করকে মুক্তি দেওয়া হবে। যদিও এই গুরুতর দাবির সত্যতা এখনও পর্যন্ত যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে স্থানীয়দের দাবি, দীপঙ্করকে জোর করে ওপারে নিয়ে যাওয়ার পর তাঁর ভাইয়ের মোবাইলে একটি ভিডিও কল করা হয়। সেই ভিডিও কলেই অপহৃত যুবককে দেখানো হয়েছে। এক স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করে জানান, নিজের জমিতে দৈনন্দিন কাজ করতে গিয়েছিলেন দীপঙ্কর, আর তখনই বাংলাদেশের কিছু লোক তাঁকে তুলে নিয়ে যায়। বর্তমানে বিএসএফ এবং স্থানীয় প্রশাসন তাঁকে দ্রুত ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে।

এদিন ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় রাজগঞ্জ থানার পুলিশ (Rajganj Police)। পুরো পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছেন চাউলহাটি বিএসএফ ক্যাম্পের আধিকারিকরা। জানা গিয়েছে, অপহৃত ভারতীয় কৃষককে অক্ষত অবস্থায় দেশে ফেরাতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা বিজিবি-র (BGB) সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ও সমস্যা সমাধানে প্রয়োজন পড়লে দু’দেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর মধ্যে ফ্ল্যাগ মিটিং (Flag Meeting) আয়োজন করার উদ্যোগও নেওয়া হতে পারে।
Advertisement