উত্তরবঙ্গের কালিম্পং থেকে বেআইনিভাবে বসবাসকারী এক আফগান নাগরিককে গ্রেফতার করল পুলিশ। শিলিগুড়ি করিডর বা চিকেনস নেকের নিরাপত্তা নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য...

পুলিশি তদন্তে জানা গিয়েছে, আজ থেকে প্রায় দুই বছর আগে আন্তর্জাতিক সীমানা পার করে সৈয়দ বিলাল খান সহ মোট চারজন আফগান নাগরিক অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। অনুপ্রবেশের পর তাঁরা প্রথমে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়িতে পৌঁছন। পরবর্তীতে পাহাড়ি এলাকা কালিম্পংয়ের হাট বাজারের ওই নির্দিষ্ট বাড়িতে ভাড়াটে হিসেবে থাকতে শুরু করেন। তবে শুক্রবার ওই দলটির দুজন আফগান নাগরিক কালিম্পং ছেড়ে অন্যত্র চলে যান। যে রাতে বিলাল পুলিশের জালে ধরা পড়েন, ঠিক তার আগেই আরেক সঙ্গী সেখান থেকে চম্পট দেয়। পুলিশ জানিয়েছে, তল্লাশি চালানোর সময় ধৃত যুবকের কাছ থেকে ভারতে থাকার কোনও বৈধ পাসপোর্ট, ভিসা বা নথি উদ্ধার হয়নি। অনুপ্রবেশের দায়ে নির্দিষ্ট মামলা রুজু করে তাঁকে কালিম্পং আদালতে পেশ করা হয়েছে।
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই তথাকথিত 'চিকেনস নেক' বা শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে চিন্তা বৃদ্ধি পেয়েছে। ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির যোগাযোগের একমাত্র এই সংকীর্ণ পথটি চিন, বাংলাদেশ, ভূটান ও নেপালের সীমান্ত সংলগ্ন হওয়ায় অত্যন্ত সংবেদনশীল। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এমন একটি ভূ-রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক সীমান্ত ঘেঁষা এলাকায় বিদেশি অনুপ্রবেশকারীদের নজরদারি এড়িয়ে দিনের পর দিন আত্মগোপন করে থাকাটা অত্যন্ত বিপজ্জনক। শিলিগুড়ি এবং সংলগ্ন পাহাড়কে ট্রানজিট রুট হিসেবে কাজে লাগানোর কোনও ছক রয়েছে কি না, সেই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
এমন গুরুতর পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে কালিম্পং জেলা পুলিশের তরফে সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। কালিম্পং জেলার পুলিশ সুপার অপরাজিতা রাই জানিয়েছেন, অপরিচিত কাউকে ঘর ভাড়া দেওয়ার আগে অবশ্যই নিকটবর্তী থানায় গিয়ে পুলিশের মাধ্যমে 'টেন্যান্ট ভেরিফিকেশন' (ভাড়াটিয়ার পরিচিতি যাচাই) করিয়ে নিতে হবে। পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে এবং পরিচয়পত্র যাচাই ছাড়া কাউকে বাড়ি ভাড়া না দেওয়ার জন্য পাহাড়ের সমস্ত বাসিন্দাকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জানা গিয়েছে, ভবিষ্যতে এই এলাকায় অনুপ্রবেশ ঠেকাতে এহেন তল্লাশি ও নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।
Advertisement