ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথেই সরস্বতীপুর চা বাগান সংলগ্ন জঙ্গল অঞ্চলে বেআইনি চোলাই মদের বিরুদ্ধে এক বিশাল তল্লাশি কর্মসূচি কার্যকর করা হলো।

বৃহস্পতিবারের এই যৌথ তল্লাশিতে সরস্বতীপুর অঞ্চলের একাধিক প্রান্তে তল্লাশি চালিয়ে বাজেয়াপ্ত করা সম্ভব হয় ১৩৫ লিটার চোলাই মদ। এর পাশাপাশি বিভিন্ন গোপন ডেরা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৩,৯২০ লিটার গাঁজন করা তরল মিশ্রণ বা ফারমেন্টেড ওয়াশ (fermented wash)। বাজেয়াপ্ত হওয়া যাবতীয় সামগ্রীর আনুমানিক আর্থিক মূল্য প্রায় ৮ লক্ষ ৫১ হাজার টাকা।
জানা গিয়েছে, অঞ্চলটি চা বাগান ও ঘন জঙ্গল দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকার সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন নির্জন স্থানে লুকিয়ে অবৈধ চোলাই মদ উৎপাদন এবং মজুত করার কাজ চালানো হচ্ছিল। চিরুনি তল্লাশি চালিয়ে জঙ্গলের নানা প্রান্তের পাশাপাশি মাটির তলা থেকেও এই চোলাই ও ফারমেন্টেড ওয়াশের সন্ধান পান তদন্তকারীরা। উদ্ধার করার পর সমস্ত চোলাই মদ ও গাঁজন করা মিশ্রণ ঘটনাস্থলেই নষ্ট করে দেওয়া হয়।
এই যৌথ অভিযানে উপস্থিত ছিলেন জলপাইগুড়ির সহকারী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কালেক্টর, ভক্তিনগর রেঞ্জের উপ-আবগারি কালেক্টর কে সিং বিদ্ধি, সহকারী রাজস্ব কালেক্টর (আবগারি), ভোরের আলো থানার ওসি সুদীপ দত্ত, গাজলডোবা আউটপোস্টের ওসি রাসবিহারী সাহা এবং জেলা আবগারি দপ্তরের পদস্থ আধিকারিকেরা।
ভক্তিনগর রেঞ্জের উপ-আবগারি কালেক্টর কে সিং বিদ্ধি জানান, জলপাইগুড়ি জেলা আবগারি দপ্তরের প্রতিটি দল, শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের ভোরের আলো থানা, গাজলডোবা আউটপোস্ট এবং কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর যৌথ উপস্থিতিতেই সমগ্র অভিযানটি পরিচালনা করা হয়েছে।

বিভিন্ন স্থান থেকে ১৩৫ লিটার চোলাই মদের সাথে ৩,৯২০ লিটার ফারমেন্টেড ওয়াশ বাজেয়াপ্ত হয়, যার সামগ্রিক বাজারমূল্য আনুমানিক প্রায় ৮ লক্ষ ৫১ হাজার টাকা। তিনি আরও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, অবৈধ চোলাই কারবারের বিরুদ্ধে এই ধরনের কড়া পদক্ষেপ ও অভিযান লাগাতার জারি থাকবে।
Advertisement