রাজ্যে দুর্যোগ মোকাবিলায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বড় সিদ্ধান্ত। অগ্নিবীর ও অবসরপ্রাপ্ত জওয়ানদের নিয়ে তৈরি হলো বিশেষ ‘অর্জুন বাহিনী’।

বক্তব্যের মাঝে সম্প্রতি তারাতলার গুদাম ধসে যাওয়া সহ পোস্তা ও মাঝেরহাটের মর্মান্তিক উড়ালপুল দুর্ঘটনার প্রসঙ্গও টেনে আনেন মুখ্যমন্ত্রী। তার অভিযোগ, পূর্বে ইমারত তৈরির সময় কোনো নিয়ম বা সঠিক পরীক্ষা-নিরীক্ষণের তোয়াক্কা না করেই বহুতল বানিয়ে দেওয়া হতো। স্রেফ বাড়তি উপার্জনের উদ্দেশ্যে জলাজমি ভরাট করে বেআইনি নির্মাণের ফলে যে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি গড়ে উঠেছিল, তা বিপন্ন করেছে সাধারণের জীবন। এই ধরনের অনভিপ্রেত বিপদ আর প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের থেকে সুরক্ষিত রাখতে কাজ করবে নতুন ‘অর্জুন বাহিনী’।
প্রাথমিক পর্যায়ে মোট ২০০ জন জওয়ান থাকছেন এই বিশেষ টিমটিতে। এর মধ্যে পাহাড়ে ৫০ জন, কলকাতায় ১০০ জন ও সংবেদনশীল সুন্দরবন এলাকায় ৫০ জন মোতায়েন থাকবেন। তদুপরি, মন্দারমণি, দিঘা এবং তারাপীঠের মতো ব্যস্ত পর্যটনক্ষেত্রগুলোতে দায়িত্ব পালন করবেন এই সিভিল ডিফেন্স ও অগ্নিবীররা। কাজের সুরক্ষার দিকে খেয়াল রেখে নির্দিষ্ট ভাতা ও বিমার বন্দোবস্তও করা নিশ্চিত হয়েছে। বাহিনী প্রধান অর্থাৎ ‘বীর নায়ক’ প্রতি মাসে ৪০ হাজার টাকা ও সাধারণ সদস্য বা ‘বীর’ গণ ২৫ হাজার টাকা করে মাসিক সম্মানদক্ষতা পাবেন। বার্ষিক ৩ শতাংশ হারে এই আর্থিক সাম্মানিক বাড়বে। তাছাড়াও দায়িত্বে থাকা অবস্থায় জীবনহানি বা গুরুতর আঘাত লাগলে ১০ লক্ষ টাকা এবং স্থায়ী অক্ষমতায় ৫ লক্ষ টাকার সাহায্যও দেওয়া হবে।
আগামী দিনে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও পর্যাপ্ত পরিকাঠামো সরবরাহ করা হবে এই টিমটিকে—এমনটাই প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। আমফানের ন্যায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ এড়িয়ে সাধারণ মানুষের প্রাণ বাঁচানোই হবে এই বাহিনীর মুখ্য উদ্দেশ্যে।
Advertisement