কোচবিহারে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পেয়ে মন্ত্রী মালতি রাভা রায়ের সামনে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন মহিলারা।

কোচবিহার: অন্নপূর্ণা যোজনার প্রাপ্য অর্থ না পেয়ে শেষমেশ নারী ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী মালতি রাভা রায়ের মুখোমুখি হলেন একদল মহিলা। অভিযোগকারীদের দাবি, উপযুক্ত মানদণ্ড থাকা সত্ত্বেও মাসের পর মাস তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরকারি অনুদান ঢুকছে না। পঞ্চায়েত মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এসে ব্যর্থ হওয়ার পরই ক্ষুব্ধ উপভোক্তারা নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
জানা গিয়েছে, রবিবার কোচবিহারের রবীন্দ্রভবনে গ্রামীণ উন্নয়ন, পঞ্চায়েতের কাজ ও নানা সরকারি প্রকল্পের পর্যালোচনা বৈঠকে যোগ দেন পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। উপস্থিত ছিলেন কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ার— এই দুই জেলার প্রশাসনিক আধিকারিকরা। বৈঠক চলাকালীনই অন্নপূর্ণা যোজনা সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে মন্ত্রীর সাক্ষাতের অপেক্ষায় বাইরে এসে জড়ো হন কয়েকজন মহিলা। তবে দিলীপ ঘোষের সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব না হওয়ায় তাঁরা সোজা নারী ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী মালতি রাভা রায়ের পথ আটকান।
মন্ত্রীকে সামনে পেয়েই প্রশ্নবানে জর্জরিত করেন উপস্থিত মহিলারা। তাঁদের ক্ষোভ, যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও নাম বাদ পড়েছে তালিকা থেকে, আবার কখনও জুড়ে দেওয়া হচ্ছে নিত্যনতুন নিয়মের বেড়াজাল। নিজেদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পরিচয় সামনে এনে একদল মহিলা দাবি তোলেন, "১৮-১৯ বছর ধরে বিজেপি করি। যোগ্য হওয়ার পরেও টাকা পাব না কেন?"
আবেদন বাতিলের যুক্তি নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন পাপড়ি দেব নামের এক অভিযোগকারী। তিনি জানান, শহরে তিনটি পাকা বাড়ি থাকাকে কারণ হিসেবে দেখিয়ে আবেদন বাতিল করা হয়েছে, অথচ আবেদনের প্রাথমিক পর্যায়ে কেবল আয়করদাতা ও সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য এই নিষেধাজ্ঞা ধার্য ছিল। বিগত ৪ মাসে একটি কিস্তির টাকাও পাননি বলে দাবি করেন তিনি। নিয়ম পরিবর্তনের অছিলায় বা বাড়ি পাকা থাকার কারণ দেখিয়ে প্রাপকদের বঞ্চিত করা হচ্ছে বলেই তাঁদের মূল অভিযোগ।
তবে অভিযোগ শোনার পর নারী ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী মালতি রাভা রায় তাঁদের আশ্বস্ত করেন। তিনি জানান, উপযুক্ত কোনো উপভোক্তাকেই এই সহায়তা থেকে বাদ রাখা হবে না। প্রশাসনিক স্তরে কোনো জটিলতা থাকলে তা পুনরায় খতিয়ে দেখার বার্তা দেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, উপভোক্তা চিহ্নিতকরণের তথ্য যাচাইয়ের কাজ চলমান রয়েছে এবং প্রতি মাসেই বৃদ্ধি পাচ্ছে প্রাপকের সংখ্যা; যাচাই পর্ব সম্পন্ন হলেই যোগ্যরা প্রাপ্য অর্থ পেয়ে যাবেন।
মন্ত্রীর এই মৌখিক আশ্বাসে অবশ্য পুরোপুরি আশ্বস্ত নন বিক্ষোভকারীরা। তাঁদের পাল্টা প্রশ্ন, প্রশাসনকে নির্দিষ্ট কারণ জানাতে হবে যে ঠিক কী নিয়মের ভিত্তিতে তাঁদের আবেদন বাতিল হয়েছে, আর তাঁরা যোগ্য হলে কেন এত মাস ধরে টাকা আটকানো হচ্ছে। কোচবিহারে অন্নপূর্ণা যোজনার অর্থ না পাওয়াকে কেন্দ্র করে আগেও ক্ষোভ দেখা গিয়েছিল, তাই রবিবার বিজেপি কর্মী পরিচয় দেওয়া মহিলাদের এই প্রতিবাদকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে মানতে নারাহয়জ রাজনৈতিক মহলের একাংশ। একপক্ষে তথ্য যাচাইয়ের প্রশাসনিক দাবি, আর অন্যপক্ষে দীর্ঘ বঞ্চনার অভিযোগ— এই দুইয়ের দ্বন্দ্বে যোগ্য ও অযোগ্য নির্ধারণ নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক।
Advertisement