দুর্গাপুজোয় আমিষ ও নিরামিষ খাওয়া নিয়ে বাগেশ্বর বাবার 'পাখণ্ডী' মন্তব্যের কড়া জবাব দিলেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।

উল্লেখ্য, দিনকয়েক আগেই মধ্যপ্রদেশের ধর্মগুরু ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী বা বাগেশ্বর বাবা (Bageshwar Baba) পুজোর দিনগুলোতে মাছ-মাংস ভক্ষণকারীদের ‘পাখণ্ডী’ বা অধার্মিক আখ্যা দিয়েছিলেন। ওই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক ও সামাজিক স্তরে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়। সেই প্রেক্ষিতেই এদিন মন্ত্রী জানান, মূলত শরীর সুস্থ রাখার তাগিদেই সন্ন্যাসীরা নিরামিষ আহারের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। সেটি সম্পূর্ণ তাঁদের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি। তবে এই নিয়ম সকলের জন্য বাধ্যতামূলক হতে পারে না।
নিজের খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে জানাতে গিয়ে তিনি বলেন যে, মাছ ছাড়া তাঁর চলে না। মানুষের যা পছন্দ, সে সেটাই খাবে, এখানে তর্কের অবকাশ নেই। রাজ্যের মন্ত্রী আরও মনে করিয়ে দেন, পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) রীতি-নীতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখানকার মানুষ মা কালীর আরাধনা করেন। দেবী দুর্গাপুজো কিংবা কালীপুজোয় বলিদানের সুপ্রাচীন প্রথা রয়েছে। সেই পাঁঠার মাংসই পরবর্তীতে প্রসাদ রূপে গ্রহণ করা হয়। তাই উৎসবের দিনগুলোয় আমিষ আহার নিয়ে প্রশ্ন তোলাটা নিতান্তই অর্থহীন।
বাগেশ্বর বাবার ওই মন্তব্যের পালটা জবাব দিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ওই সাধুর ভক্তদের মধ্যে কেউই যে আমিষ ছোঁন না, তা কি গ্যারান্টি দিয়ে বলা সম্ভব? পাশাপাশি স্বামী বিবেকানন্দের একটি বিখ্যাত উক্তি টেনে তিনি বলেন, যতদিন এই দেশের অস্তিত্ব থাকবে, ততদিন শিবের ডমরু বাজবে আর মা কালী পাঁঠা খাবেন।
খাবারের মেনু নিয়ে চলতে থাকা এই তরজায় রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলকেও আক্রমণ করতে ছাড়েননি দিলীপ ঘোষ। তাঁর অভিযোগ, মানুষ কী খাবে আর কী খাবে না, অতীতে তৃণমূলের তরফেই সেটা নির্ধারণ করে দেওয়ার একটা প্রবণতা লক্ষ্য করা যেত।
Advertisement