ফুলবাড়ি মহানন্দা ব্যারেজে স্নান করতে নেমে তলিয়ে যাওয়া নারায়ণা স্কুলের দুই নিখোঁজ ছাত্রের দেহ উদ্ধার করল NDRF। মালদহ ও বাংলাদেশের বাসিন্দা দুই পড়ুয়ার,

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, রবিবার বিকেলে ফুলবাড়ি মহানন্দা ব্যারেজে স্নান করতে নেমেছিল তিন বন্ধু। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি অনুযায়ী, তাঁদের জলে নামার ক্ষেত্রে নিষেধ করা হয়েছিল। তবে সেই বারণ উপেক্ষা করেই তিনজন নদীতে নামে। এরপর নদীর একটি গভীর অংশে পা পড়তেই একজন ভেসে যেতে শুরু করলে, তাকে রক্ষা করতে গিয়ে অন্য দুই বন্ধুও চরম বিপাকে পড়ে। শেষ পর্যন্ত স্থানীয়দের তৎপরতায় দিব্যাংশ শাহা নামের এক পড়ুয়াকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও, বাকি দুজন স্রোতের তোড়ে তলিয়ে যায়।
উদ্ধার পাওয়া দিব্যাংশের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা গিয়েছে, জলে তলিয়ে যাওয়া দুই ছাত্রের নাম প্রাগজ্যোতি দাস ও মহাম্মদ সাফায়েল হোসেন নওসাদ। জীবিত উদ্ধার হওয়া দিব্যাংশের বাড়ি মেখলিগঞ্জে। অন্যদিকে নিখোঁজ প্রাগজ্যোতির বাড়ি মালদহে এবং নওসাদ বাংলাদেশের বাসিন্দা। তারা তিনজনই দশম শ্রেণির ছাত্র এবং জটিয়াকালি সংলগ্ন নারায়ণা স্কুলের হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা চালাত।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর পেয়ে রবিবার রাতেই মালদহ থেকে প্রাগজ্যোতির বাবা-মা শিলিগুড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন এবং রাত দেড়টা নাগাদ পৌঁছন। প্রাগজ্যোতির মা অর্পিতা দাস জানান, রবিবার রাত আটটা নাগাদ টেলিফোনে ছেলের জলে তলিয়ে যাওয়ার বিষয়ে জানতে পারেন তাঁরা। এরপরই তাঁরা মালদহ থেকে তড়িঘড়ি ছুটে আসেন। তাঁর আরও দাবি, বাবা-মায়ের থেকে অনুমতি নিয়েই ছেলে হোস্টেল থেকে বাইরে বেরিয়েছিল।
এদিকে রবিবার ঘটনার পর থেকেই জলে তলিয়ে যাওয়া দুই পড়ুয়ার খোঁজে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছিল। সোমবার সকাল থেকে জোরদার অভিযানে নামে NDRF, SDRF, সিভিল ডিফেন্স ও ডুবুরি দল। পাশাপাশি ফাঁসিদেওয়া ও নিউ জলপাইগুড়ি থানার পুলিশ তল্লাশি চালাতে থাকে। স্পিডবোট ও ডুবুরি নামিয়ে নদীর গভীরে অনুসন্ধানের পাশাপাশি হেঁটেও বিভিন্ন অংশে খোঁজ চালানো হয়। তবে সোমবার রাত পর্যন্ত তল্লাশি চালিয়েও তাদের কোনো হদিস মেলেনি।
অবশেষে মঙ্গলবার ভোরে মহানন্দা নদী থেকেই দেহ দুটি উদ্ধার হয়। এনডিআরএফ (NDRF) কর্মকর্তা জানান, দুটি দেহ পাশাপাশি অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। সম্ভবত নদীর জলে ডুবে যাওয়ার মুহূর্তে একজন অন্যজনের হাত শক্ত করে ধরে রেখেছিল।
Advertisement