বুদবুদের মানকর গ্রামীণ হাসপাতালে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগে রোগীর মৃত্যু ঘিরে ধুন্ধুমার। ভাঙচুর, চিকিৎসকদের মারধর এবং নিরাপত্তার দাবিতে স্বাস্থ্যকর্মী

এদিন এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল চত্বরে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ রূপ নেয় যে, উত্তেজিত জনতা হাসপাতালের বিভিন্ন অংশে ব্যাপক ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি চিকিৎসকদের উপরও শারীরিক নিগ্রহ করে বলে অভিযোগ। হামলার জেরে রোগী ও তাঁদের পরিজনদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণভয়ে অনেকেই হাসপাতালের ছাদে গিয়ে আশ্রয় নেন, যার মধ্যে এক প্রসূতিও তাঁর নবজাতককে নিয়ে ছাদে লুকিয়ে পড়েন বলে জানা গিয়েছে।
এই নারকীয় ঘটনার প্রতিবাদে এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তার দাবিতে রবিবার সকাল থেকেই হাসপাতালের গেটে বিক্ষোভে শামিল হন চিকিৎসক, নার্স থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যকর্মীরা। তবে কর্মবিরতি চললেও জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা সচল রাখা হয়েছে। হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত সুপার সপ্তর্ষি কোণার অভিযোগ করে জানান, রাতের বেলা এহেন হামলার জেরে তাঁরা চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন। এতে চিকিৎসক, নার্স ও চিকিৎসাধীন রোগীদের জীবনের ঝুঁকি বাড়ছে। দোষীদের বিরুদ্ধে পুলিশি ব্যবস্থার কড়া দাবি জানিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চিকিৎসক জানান, পরিষেবা প্রদান করতে গিয়ে যদি নিজেদেরই আক্রান্ত হওয়ার ভয় থাকে, তবে কাজ করা কার্যত অসম্ভব। সেই কারণেই তাঁরা বিক্ষোভে বসতে বাধ্য হয়েছেন।
ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বুদবুদ থানার পুলিশ। ডিসি পূর্ব রাসপ্রীত সিং কড়া বার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ করা হবে। এদিন ঘটনাস্থলে পৌঁছান স্বাস্থ্য দফতর ও প্রশাসনের পদস্থ আধিকারিকরা। পাশাপাশি সেখানে উপস্থিত হন বিজেপি রাজ্য কমিটির সদস্য নরেশ কোনার। তাঁরা চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা করেন। নরেশ কোনার জানান, রোগীর মৃত্যু অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক, তবে এর জেরে হাসপাতালে ভাঙচুর বা চিকিৎসকদের উপর হামলা কোনো সমস্যার সমাধান হতে পারে না। পাশাপাশি রোগীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখারও দাবি জানিয়েছেন তিনি।
Advertisement