পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনি থেকে শীর্ষ মাওবাদী নেতা অসীম মণ্ডল ওরফে আকাশের ঘনিষ্ঠ রাজু মাহাতো ও মালতী মুর্মুকে গ্রেফতার করল কলকাতা পুলিশের STF।

সূত্রের খবর, এদিন শালবনির ৫ নম্বর লালগেড়িয়া অঞ্চলের অন্তর্গত ওই গ্রামে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে গোপন অপারেশন চালায় এসটিএফ। বেশ কিছুদিন ধরেই এই দু'জনের গতিবিধির উপর কড়া নজরদারি চালাচ্ছিলেন তদন্তকারীরা। শেষমেশ তাঁদের হদিস মেলে এবং আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। যদিও এই গ্রেফতারি নিয়ে এখনও পর্যন্ত পুলিশের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানা যায়নি। ফলত, ধৃতদের কাছ থেকে কী কী উদ্ধার হয়েছে বা তাদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কী অভিযোগ রয়েছে, তা এখনও পরিষ্কার নয়।
তদন্তকারী সূত্রে দাবি, কয়েকদিন আগে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পটাশপুর থেকে মাওবাদী শীর্ষনেতা অসীম মণ্ডল ওরফে আকাশের গ্রেফতারির ঘটনার সঙ্গে এই ধরপাকড়ের সরাসরি যোগ রয়েছে। উল্লেখ্য, দীর্ঘসময় ধরে নিরাপত্তা সংস্থাগুলির নজরে থাকা আকাশকে পটাশপুর-১ ব্লকের নৈপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের মনীনাথপুর থেকে গ্রেফতার করেছিল এসটিএফ। তাঁর মাথার দাম ছিল এক কোটি টাকা।
তদন্তকারীদের দাবি, প্রায় চার দশক মাওবাদী কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত থাকা আকাশ কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং পশ্চিমবঙ্গে সংগঠনের নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। দীর্ঘদিন জঙ্গলে গা ঢাকা দিয়ে থাকার পর সম্প্রতি তিনি জনবহুল এলাকায় যাতায়াত শুরু করেছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, চিকিৎসার জন্য অর্থ সংগ্রহ করতেই শ্বশুরবাড়ির এলাকা পটাশপুরে এসেছিলেন তিনি। গোপন সূত্রে সেই খবর পেয়েই অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
আকাশের গ্রেফতারির পরেই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখা ব্যক্তিদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয় এবং সেই সূত্র ধরেই রাজু ও মালতীর নাম এসটিএফের হাতে আসে। এরপরই তাঁদের গতিবিধির উপর নজরদারি বাড়িয়ে শালবনির সরবেড়িয়া থেকে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। স্বামী ও স্ত্রী উভয়ের নামেই পুরস্কার ঘোষণা থাকায় এই গ্রেফতারি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এক কোটি টাকার পুরস্কার ঘোষিত আকাশের মতো শীর্ষ নেতার পর তাঁর এই ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের ধরা পড়ার ফলে মাওবাদী নেটওয়ার্কের পুরনো যোগসূত্রগুলো ফের প্রকাশ্যে আসতে পারে। বর্তমানে এসটিএফের জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত রাজু এবং মালতীর থেকে নতুন কী তথ্য বেরিয়ে আসে, তাঁরা এতদিন কোথায় লুকিয়ে ছিলেন এবং তাঁদের সঙ্গে আরও কাদের যোগাযোগ রয়েছে— সেদিকেই এখন নজর তদন্তকারীদের।
Advertisement