নেপালের ধারচুলায় নতুন করে ধস, আংশিক অবরুদ্ধ চৌলানি নদীর গতিপথ। গত ২৬ আগস্টের হড়পা বানের পর নিখোঁজ ৯০০ শ্রমিক।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আপি হিমল গ্রামীণ পুরসভার ভাট্টার নামক স্থানে এই ভয়াবহ ধস নামে। পাহাড় থেকে ভেঙে পড়া বিশাল স্তূপের কারণে নদীর গতিপথ অনেকটাই বাধাপ্রাপ্ত। প্রশাসনের আশঙ্কা, ওই স্থানে যদি পুনরায় ধস নামে, তবে মাটি ও বালি জমে নদীর স্রোত পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে একটি কৃত্রিম হ্রদ তৈরি হয়ে পরবর্তীতে তা ভয়ংকর হড়পা বানে (Flash Flood) পরিণত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
এই অত্যন্ত চিন্তাজনক পরিস্থিতিতে সুদূরপশ্চিম প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী খগরাজ ভট্ট জরুরি ভিত্তিতে সমস্ত আপৎকালীন ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। সাধারণ মানুষের জন্য প্রকাশ করা হয়েছে হেল্পলাইন নম্বর। নেপালের সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে, বর্তমানে চৌলানি নদীর স্রোত স্বাভাবিক থাকলেও বালাঞ্চ এলাকার চামেলিয়া জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের আধিকারিকদের মধ্যে যথেষ্ট উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২৬ আগস্টের ধ্বংসাত্মক হড়পা বানের পর নেপালের একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রায় ৯০০ জন শ্রমিকের এখনও কোনো খোঁজ মেলেনি। ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় ৫০০ শ্রমিক সুড়ঙ্গের ভেতর আটকা পড়ে আছেন। নিখোঁজদের সন্ধানে দিনরাত এক করে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারী দল।
চামেলিয়া নামেও পরিচিত চৌলানি নদীর উৎপত্তি আপি হিমল এলাকায়। এটি পরবর্তীতে ভারত ও নেপালের একাংশের সীমানা নির্ধারণকারী মহাকালী নদীতে গিয়ে মিশেছে। গত মাসের শেষের দিকে ঘটা ভয়ংকর হড়পা বানের ফলে নেপালে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। শুক্রবার রাত পর্যন্ত উপদ্রুত এলাকাগুলি থেকে মোট ১,২৯৫টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ইতিমধ্যেই ১২ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হলেও, বহু মানুষ এখনও নিখোঁজ। এর মাঝেই ধারচুলার নতুন ভূমিধস গোটা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে।
Advertisement