হালয়ার সকালে উত্তপ্ত দিল্লি! সাউথ অ্যাভিনিউয়ের ধর্নামঞ্চ থেকে আটক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

October 10, 2026
Reading...
মহালয়ার সকালে দিল্লিতে আটক রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাউথ অ্যাভিনিউ থেকে তাঁকে প্রিজন ভ্যানে তোলার প্রতিবাদে সরব কুণাল ঘোষ।
মহালয়ার সাতসকালে সিজেপি-র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রীতিমতো সরগরম হয়ে ওঠে রাজধানী দিল্লি। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে 'ককরোচ'দের বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছিল। দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে এই জমায়েতের অনুমতি না দেওয়া সত্ত্বেও 'আরশোলা'রা সেখানে কর্মসূচি পালন করে। এরই মাঝে বেআইনি জমায়েতের অভিযোগে দিল্লির সাউথ অ্যাভিনিউ থেকে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটক করেছে পুলিশ।

সূত্রের খবর, শনিবার যন্তর মন্তরে যাওয়ার অনুমতি না পেয়ে সাউথ অ্যাভিনিউতে নিজের বাসভবনের সামনেই ধর্নায় বসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন দোলা সেন, ডেরেক ও'ব্রায়েন, সামিরুল ইসলাম এবং প্রতিমা মণ্ডল। পুলিশ প্রথমে তাঁদের উঠে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। কিন্তু তাঁরা সেই নির্দেশ অমান্য করায় জোরপূর্বক তাঁদের আটক করে একটি বাসে বা প্রিজন ভ্যানে তোলা হয়। গন্তব্য কোথায়, তা এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট নয়। প্রিজন ভ্যান থেকেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জানান, 'সেভ ইন্ডিয়া, সেভ ডেমোক্রেসি' প্ল্যাকার্ড হাতে তাঁরা শান্তিপূর্ণ ধর্না দিচ্ছিলেন। তাঁর অভিযোগ, আটক করার পর বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে তাঁদের প্রায় ৪০ মিনিট ধরে গোটা দিল্লি ঘোরানো হয়েছে।

এদিকে, এই ঘটনার দিনই তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে একটি ভিডিও প্রকাশ্যে আসে, যা সংবাদসংস্থা আইএএনএস (IANS)-ও শেয়ার করেছে। সেখানে মহালয়া উপলক্ষে মমতাকে 'জাগো দুর্গা, জাগো দশপ্রহরণধারিণী' গাইতে দেখা গিয়েছে।

অন্যদিকে, বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ নিজের এক্স (X) হ্যান্ডেলে পরপর বেশ কয়েকটি পোস্ট করে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাড়ি থেকে বের হতে বাধা দেওয়া হয় এবং প্রতিবাদ করতেও দেওয়া হয়নি। এরপরই তাঁকে প্রিজন ভ্যানে তোলার তীব্র নিন্দা করে কুণাল লেখেন, নেত্রীর উচ্চতা অনুযায়ী বিকল্প গাড়ির ব্যবস্থা করা পুলিশের উচিত ছিল। তাঁর দাবি, কোনও আইন না ভাঙা সত্ত্বেও তাঁকে কেন আটক করা হল? তৃণমূল বিধায়ক আরও জানান, দিল্লিতে গণতন্ত্র হত্যা করা হচ্ছে এবং রাষ্ট্রীয় দমনপীড়ন সমস্ত সীমা অতিক্রম করেছে। এরপরই নেত্রী ও সাংসদদের পুলিশ গ্রেফতার করে নিয়ে যায় বলে তিনি পোস্টে উল্লেখ করেছেন।
Advertisement